মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার মধ্যে ইসরায়েল, কাতার, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে ৮.৬ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে নতুন করে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশ-ইসরায়েল, কাতার, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে মোট ৮.৬ বিলিয়ন (৮৬০ কোটি) ডলারের বেশি মূল্যের সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর নবম সপ্তাহ এবং একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার তিন সপ্তাহের বেশি সময় পর এই ঘোষণাটি এলো।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ঘোষণায় অন্তর্ভুক্ত ছিল-
কাতার: ৪.০১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ‘প্যাট্রিয়ট’ আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সরঞ্জাম এবং ৯৯২.৪ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ‘অ্যাডভান্সড প্রিসিশন কিল ওয়েপন সিস্টেম’ (APKWS)-যা একটি লেজার-নির্দেশিত অস্ত্র কিট।
কুয়েত: ২.৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি সমন্বিত যুদ্ধ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (Integrated Battle Command System)।
ইসরায়েল: ৯৯২.৪ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ‘অ্যাডভান্সড প্রিসিশন কিল ওয়েপন সিস্টেম’ (APKWS)।
সংযুক্ত আরব আমিরাত: ১৪৭.৬ মিলিয়ন ডলার মূল্যের APKWS সরঞ্জাম।
পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, কাতার, ইসরায়েল এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে APKWS বিক্রির প্রধান ঠিকাদার হলো বিএই সিস্টেমস (BAE Systems)।
অন্যদিকে, কুয়েতের সমন্বিত যুদ্ধ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং কাতারের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিক্রির প্রধান ঠিকাদার হিসেবে রয়েছে আরটিএক্স (RTX) এবং লকহিড মার্টিন (Lockheed Martin)। এছাড়া কুয়েতের চুক্তিতে নর্থরপ গ্রুম্যান (Northrop Grumman)-ও অন্যতম প্রধান ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে ৩০টি কার্গো বিমানে করে বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম পাঠিয়েছে। এর মধ্যে ইসরায়েল একাই পেয়েছে হাজার হাজার টন অস্ত্র ও সরঞ্জাম। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনাকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।
উল্লেখ্য-গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং মার্কিন ঘাঁটি থাকা উপসাগরীয় দেশগুলোতে পাল্টা হামলা চালায়। ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলা এবং লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় হাজার হাজার মানুষ নিহত এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
সূত্র : টাইমস অব ইসরায়েল







