যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছর অন্তত ৮৫ হাজার ভিসা বাতিল করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য অংশ স্টুডেন্ট ভিসা। ট্রাম্প প্রশাসনের এমন কঠোর ভিসা নীতির কারণে চাপে পড়েছেন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরাও।

গত সোমবার (৮ ডিসেম্বর) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সব ধরনের মিলিয়ে মোট ৮৫ হাজার ভিসা বাতিল করেছে ট্রাম্প প্রশাসন, যা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। এর মধ্যে অন্তত আট হাজার স্টুডেন্ট ভিসা রয়েছে।

পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তার বরাতে জানানো হয়, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, গত এক বছরে যত ভিসা বাতিল হয়েছে, তার প্রায় অর্ধেকের কারণ ছিল হামলা ও চুরির মতো অপরাধ। তবে বাকি ভিসা বাতিলের সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করা হয়নি।

অতীতে ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়া ও ‘সন্ত্রাসে সমর্থন’–এর অভিযোগও ভিসা বাতিলের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে প্রশাসন।

আরও পড়ুন:  ইরান যুদ্ধে আরো কর্মকর্তা মোতায়েনের অনুরোধ পেন্টাগনের

যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভে সক্রিয় বিদেশি শিক্ষার্থীদের টার্গেট

গাজা যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ইহুদিবিদ্বেষী আচরণ ও সন্ত্রাসবাদে সমর্থনের অভিযোগ তুলে স্টুডেন্ট ভিসা বাতিল করায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

গত অক্টোবর মাসে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, যেসব বিদেশি শিক্ষার্থী চার্লি কার্ক হত্যাকাণ্ড নিয়ে ‘উল্লাস’ করেছে বলে অভিযোগ, তাদের কিছু ভিসাও বাতিল করা হয়েছে।

নিরবচ্ছিন্ন ভেটিং: নজরে সাড়ে পাঁচ কোটি ভিসাধারী

আগস্টে পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানান, বৈধ ভিসাধারী ৫ কোটি ৫৫ লাখ প্রবাসীকে ‘নিরবচ্ছিন্ন ভেটিং’-এর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। অপরাধ, অতিরিক্ত অবস্থান, জননিরাপত্তা ঝুঁকি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কিংবা সন্ত্রাসী সংগঠনকে সহায়তা—এ ধরনের যেকোনো ইঙ্গিত পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে ভিসা বাতিল করা হবে।

আরও পড়ুন:  কুয়েতের আমিরের মৃত্যুতে বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় শোক পালন

তিনি বলেন, ভিসা ইস্যুর পর নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে বা পুলিশ ও ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত রেকর্ডে সম্ভাব্য অযোগ্যতার ইঙ্গিত থাকলে তা বাতিলের ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হবে।

বাড়তি নজরদারির আওতায় এইচ–১বি ভিসা

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ভিসা যাচাইয়ের মানদণ্ড আরও কঠোর করা হয়েছে। রয়টার্স জানায়, সাম্প্রতিক কূটনৈতিক বার্তায় বলা হয়েছে, ফ্যাক্ট–চেকিং, কনটেন্ট মডারেশনসহ বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত ছিলেন যেসব বিদেশি, তাদের এইচ–১বি ভিসা বাড়তি যাচাইয়ের মাধ্যমে বাতিল বা প্রত্যাখ্যান করা যেতে পারে।

এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ঘোষণা দেন, ‘আমেরিকানদের সেন্সর’ করেন, এমন বিদেশিদের ভিসা সীমিত করা হবে।

গত জুনে দেওয়া নতুন নির্দেশনায় আরও বলা হয়, স্টুডেন্ট ভিসা আবেদনকারীদের ‘আমেরিকার নাগরিক, সংস্কৃতি, সরকার, প্রতিষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠাতা নীতির প্রতি বৈরী মনোভাব’ আছে কি না তা যাচাই করতে হবে। আবেদনকারীদের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল পাবলিক করতে বলা হয়েছে, কারণ ‘অনলাইন কার্যক্রম লুকানোর চেষ্টা’ হিসেবেও সীমিত অ্যাক্সেস দেখা হতে পারে।

আরও পড়ুন:  দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভারতে গেল ৪৫৯ টন ইলিশ

ভিসা বাতিলের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ অভিযানও তীব্র

যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ধরপাকড় ও দেশ ছাড়ার অভিযান চালাচ্ছে। বাইডেন প্রশাসনের সময় যুক্তরাষ্ট্রে যেসব শরণার্থী প্রবেশ করেছিল, তাদের সবাইকে পুনর্বিবেচনার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। প্রায় স্থবির করে দেওয়া হয়েছে শরণার্থী পুনর্বাসন কর্মসূচিও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

17 − eight =