ইমরান খানের ৩ বোনই আটক

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের পরিবারে আবারও আটকাদেশের ঘটনা ঘটেছে। এবার তার আরও দুই বোন উজমা খান ও নোরিন নিয়াজিকে ৩০ দিনের জন্য আটক করেছে কর্তৃপক্ষ।

আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর পিটিআইয়ের দেশব্যাপী বিক্ষোভ ও ইসলামাবাদমুখী পদযাত্রার কর্মসূচির আগে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) তাদের আটক করা হয়।এর এক দিন আগে ইমরানের আরেক বোন আলিমা খানকেও ৩০ দিনের জন্য আটক বা গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছিলেন লাহোরের ডেপুটি কমিশনার মুহাম্মদ আলী ইজাজ।

পরে পুলিশ সূত্র জানায়, তাকে লাহোরের কোট লাখপত কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়েছে।দ্য ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০ সেপ্টেম্বরের এক আদেশে পাঞ্জাবের জনশৃঙ্খলা রক্ষা অধ্যাদেশ-১৯৬০-এর আওতায় উজমা ও নোরিনকে ৩০ দিনের জন্য আটক রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

আদেশে তাদের ‘জননিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার জন্য ক্ষতিকর’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের কোট লাখপত কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপারের অধীনে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
লাহোরের ডিসি কার্যালয়ের আদেশে অভিযোগ করা হয়েছে, উজমা ও নোরিন ২০২৩ সালের ৯ মে সংঘটিত বিক্ষোভে জড়িত ছিলেন এবং কর্মীদের সরকারি ও জনসম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত করতে উৎসাহিত করেছিলেন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও জনসভায় আবারও কর্মীদের সংগঠিত করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।

আরও পড়ুন:  ৪৯ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠালো মালয়েশিয়া

আদেশে আরও বলা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে রেসকোর্স থানার ৯৬/২৩ নম্বর মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। পুলিশ যে প্রমাণ উপস্থাপন করেছে, তা পর্যালোচনার পর উজমা ও নোরিনকে আটক রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে পিটিআই এ ঘটনার ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় তথ্যসচিব শেখ ওয়াকাস আক্রম সোমবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করেন, ইমরানের দুই বোনকে তাদের সন্তান এবং আলিমা খানের ছেলেদের সঙ্গে আটক করে একটি সাঁজোয়া গাড়িতে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

পিটিআইয়ের আইনজীবী আওয়াইস ইউনুস চৌধুরীও দাবি করেন, ইমরানের তিন বোনকেই আটক করা হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে ক্ষমতার অপব্যবহার, মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন ও রাজনৈতিক নিপীড়ন হিসেবে বর্ণনা করে নিন্দা জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:  কে হচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী?

ইমরানের ছেলে কাসিম খানও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উজমা ও নোরিনকে ‘অপহরণ’ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। তার দাবি, কর্তৃপক্ষ তার ফুপু ও ফুপাতো ভাইদের বাড়িতে ঢুকে কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই তাদের গাড়িতে তুলে নিয়ে গেছে।

পিটিআই চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গওহর আলী খানও আটকের নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশে নতুন করে সংঘাত নয়, রাজনৈতিক উত্তেজনার অবসান প্রয়োজন। দলের সংসদ সদস্য ও পরিবারের সদস্যদের গ্রেপ্তার পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এর আগে রোববার আলিমা খানকে একই আইনের আওতায় ৩০ দিনের জন্য আটক বা গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়। ২০ সেপ্টেম্বরের ওই আদেশে আলিমার পাশাপাশি মুহাম্মদ আমির নামে এক ব্যক্তিকেও আটক রাখার নির্দেশ দেন লাহোরের ডিসি।

আলিমাকে আটক করার পর তার বোন নোরিন লাহোরে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, শনিবার বাসা থেকে বের হওয়ার পর আলিমাকে তার চালকসহ তুলে নেওয়া হয়। পরে তারা জানতে পারেন, আলিমার গাড়ি একটি থানায় রাখা হয়েছে। পুলিশ সূত্র দ্য ডনকে জানায়, আলিমাকে কোট লাখপত কারাগারে নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:  বিজয় দিবসের ছুটিতে উৎসবের নগরী কক্সবাজার, পর্যটকের ঢল

ইমরানের তিন বোনকে ঘিরে এই ধারাবাহিক আটকাদেশ এসেছে পিটিআইয়ের ২৭ সেপ্টেম্বরের দেশব্যাপী বিক্ষোভ ও ইসলামাবাদমুখী পদযাত্রার আগে। দলটি ওই কর্মসূচির মাধ্যমে ইমরান খানের মুক্তি এবং সংবিধানের শাসন প্রতিষ্ঠার দাবি জানাচ্ছে। একই সময়ে পাঞ্জাবে পিটিআইয়ের আরও নেতা-কর্মীকে আটক করার খবরও পাওয়া যাচ্ছে।

সূত্র: দ্য ডন ও জিও নিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

one × two =