যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ভিসা আবেদনকারীদের অনলাইন উপস্থিতি যাচাই বা সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রিনিং কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১ অক্টোবর থেকে আরও তিন শ্রেণির নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা—‘আই’, ‘টিএন’ ও ‘টিডি’ আবেদনকারীরা এই যাচাইয়ের আওতায় আসবেন।
পররাষ্ট্র দপ্তরের গত ১৮ সেপ্টেম্বরের ঘোষণায় বলা হয়েছে, আই, টিএন ও টিডি ভিসার সব আবেদনকারীকে তাদের সব সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলের প্রাইভেসি সেটিংস ‘পাবলিক’ বা ‘ওপেন’ করতে নির্দেশ দেওয়া হবে, যাতে ভিসা যাচাই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাদের অনলাইন উপস্থিতি পর্যালোচনা করা যায়।
‘আই’ ভিসা মূলত বিদেশি গণমাধ্যমের প্রতিনিধি—যেমন সংবাদপত্র, রেডিও, চলচ্চিত্র ও অন্য মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের যোগ্য কর্মীদের জন্য দেওয়া হয়। অন্যদিকে, ‘টিএন’ ভিসা যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা চুক্তির (ইউএসএমসিএ) আওতায় কানাডা ও মেক্সিকোর নির্দিষ্ট পেশাজীবীদের জন্য প্রযোজ্য। টিডি ভিসা টিএন ভিসাধারীদের যোগ্য নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের জন্য ব্যবহৃত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ভিসা স্ক্রিনিং ও যাচাইয়ের সময় তারা বিভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া তথ্য ব্যবহার করে আবেদনকারীর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের যোগ্যতা এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা বা জননিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগ পর্যালোচনা করে।
পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, প্রতিটি ভিসা আবেদন যাচাই মূলত একটি জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত। আবেদনকারী যে ভিসার জন্য আবেদন করেছেন, তার যোগ্যতা পূরণ করছেন কি না এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর ভিসার শর্ত মেনে চলার প্রকৃত ইচ্ছা রয়েছে কি না, সেটিও যাচাইয়ের অংশ।
নতুন সম্প্রসারণের ফলে আই, টিএন ও টিডি আবেদনকারীরা এমন একটি তালিকায় যুক্ত হচ্ছেন, যেখানে এরই মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ভিসা আবেদনকারী অনলাইন উপস্থিতি যাচাইয়ের আওতায় রয়েছেন।
এর মধ্যে রয়েছে কূটনৈতিক ও সরকারি ভিসার কিছু শ্রেণি, শিক্ষার্থী ভিসা ‘এফ’ ও ‘এম’, অস্থায়ী কর্মী ও প্রশিক্ষণ ভিসা ‘এইচ–১বি’, ‘এইচ–৩’ এবং সংশ্লিষ্ট ‘এইচ–৪’, এক্সচেঞ্জ ভিজিটর ‘জে’, বাগদত্তা ও নির্ভরশীলদের জন্য ‘কে’, সাংস্কৃতিক বিনিময় ‘কিউ’, ধর্মীয় কর্মী ‘আর’, এবং সাক্ষী, তথ্যদাতা ও ভুক্তভোগীদের জন্য ‘এস’, ‘টি’ ও ‘ইউ’ ভিসা।
পররাষ্ট্র দপ্তরের ভিসা সংক্রান্ত আর্কাইভ অনুযায়ী, গত ২৫ মার্চ অনলাইন উপস্থিতি যাচাই আরও কিছু ভিসা শ্রেণিতে সম্প্রসারণ করা হয়েছিল। এর আগে গত বছরের ৩ ডিসেম্বর এইচ–১বি ও নির্ভরশীল এইচ–৪ আবেদনকারীদের ক্ষেত্রেও এই ধরনের যাচাই সম্প্রসারণের ঘোষণা দেওয়া হয়। বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য নতুন পরিবর্তনটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আই ভিসা বিদেশি গণমাধ্যমের যোগ্য প্রতিনিধি ও সাংবাদিকদের যুক্তরাষ্ট্রে সাময়িকভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য ব্যবহৃত হয়। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে এই আবেদনকারীদের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলও অনলাইন উপস্থিতি যাচাইয়ের অংশ হবে।
তবে সোশ্যাল মিডিয়া যাচাইয়ের আওতায় আসা মানেই কোনো আবেদনকারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যানের মুখে পড়বেন—এমনটি পররাষ্ট্র দপ্তরের ঘোষণায় বলা হয়নি। বরং এটি ভিসা আবেদন যাচাই ও নিরাপত্তা মূল্যায়নের একটি অংশ হিসেবে কার্যকর হবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আই, টিএন ও টিডি নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সম্প্রসারিত অনলাইন উপস্থিতি যাচাই ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হবে।







