যুদ্ধ-সংঘাত ও এআইয়ের ভয়, জাতিসংঘে জড়ো হচ্ছেন বিশ্বনেতারা

বিশ্বজুড়ে একের পর এক সংঘাত, দ্রুত এগিয়ে চলা এআই নিয়ে বাড়তে থাকা ভয় আর আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা প্রশ্ন। এমন এক সময়েই নিউইয়র্কে জড়ো হচ্ছেন বিশ্বনেতারা।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের এবারের অধিবেশনে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনের যুদ্ধের পাশাপাশি এআইয়ের ঝুঁকি এবং বৈশ্বিক সহযোগিতার ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা হবে।

আগামী মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশন শুরু হবে। এতে প্রায় ১৩০ জন রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান সরাসরি অংশ নেবেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা যখন নানা চাপের মুখে, ঠিক সেই সময়েই শুরু হচ্ছে এবারের গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন।

এবারও সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এটি হবে টানা দ্বিতীয় বছর তার সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়া। তবে, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং এবারের অধিবেশনে অংশ নিচ্ছেন না।

আরও পড়ুন:  মানচিত্র থেকে পাকিস্তানকে মুছে ফেলার হুমকি ভারতের সেনাপ্রধানের

আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকে ইরান যুদ্ধ, তাইওয়ান এবং যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

এদিকে, জাতিসংঘের অর্থসংকট ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় সংস্থাটির ভূমিকা নিয়েও চাপ বাড়ছে। রয়টার্স জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন কমিয়েছে।

একই সঙ্গে, একাধিক জাতিসংঘ সংস্থা থেকেও সরে গেছে ওয়াশিংটন। এতে জাতিসংঘের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক ও সম্পৃক্ততা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এবারের অধিবেশনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস দ্রুত এগিয়ে চলা এআই প্রযুক্তির ওপর আরও শক্তিশালী আন্তর্জাতিক নজরদারির আহ্বান জানিয়েছেন।

এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি কোনোভাবেই উপেক্ষা করার সুযোগ নেই বলে মনে করেন তিনি। তবে, এআইয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান ভিন্ন।

আরও পড়ুন:  মোদির শপথ অনুষ্ঠানের সময় রাষ্ট্রপতি ভবনে ‘রহস্যময়’ প্রাণী

এআই নিয়ে আলোচনা শুধু সাধারণ পরিষদেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের আলোচনাতেও বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।

সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্যাম অল্টম্যান নিরাপত্তা পরিষদে এআই এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তায় এর প্রভাব নিয়ে বক্তব্য দেবেন। সেখানে এআই নিয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং নিরাপত্তার মানদণ্ড তৈরির বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।

অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনের যুদ্ধও এবারের অধিবেশনের আলোচনায় গুরুত্ব পাবে। বিশ্বনেতাদের বক্তব্যে এসব সংঘাতের পাশাপাশি জ্বালানি ও খাদ্য সরবরাহে বাধা এবং দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার অর্থনৈতিক প্রভাবও উঠে আসতে পারে।

একই সঙ্গে, জাতিসংঘের নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রক্রিয়াও চলছে। মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ ২০২৬ সালের শেষদিকে শেষ হবে।

সূত্র: খামা প্রেস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

3 × two =