কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ও আরব উপসাগরীয় অঞ্চলে নিজেদের কর্তৃত্ব আরও সুসংহত করতে নৌচলাচলে ‘নতুন নিয়ম’ ও বিশেষ নিয়ন্ত্রণ বলয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
দেশটির দক্ষিণ উপকূলীয় জলসীমায় নিরাপত্তা জোরদার এবং বিদেশি হস্তক্ষেপ বন্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘প্রেস টিভি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, আরব উপসাগর থেকে শুরু করে হরমুজ প্রণালি পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার উপকূলীয় এলাকায় এই বিশেষ নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হবে। আইআরজিসি নৌ শাখার কমান্ড থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে এই নতুন নীতিমালা ও সামরিক প্রস্তুতির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়।
বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করেছে, এই জলসীমাকে ইরানি জনগণের জন্য ‘গর্ব ও শক্তির উৎস’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য। এছাড়া এই অঞ্চলকে নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির কেন্দ্রে পরিণত করার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করা হয়েছে।
মূলত পারস্য উপসাগরে বিদেশি শক্তি বিশেষ করে মার্কিন নৌবাহিনীর ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির প্রেক্ষাপটে ইরান এই কঠোর অবস্থান গ্রহণ করল। আইআরজিসি’র পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই বলয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ওই অঞ্চলের সমুদ্রপথে যেকোনো ধরনের অননুমোদিত গতিবিধি পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
প্রেস টিভির তথ্যমতে, এই বিশেষ ঘোষণাটি এসেছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির দেওয়া এক কড়া নির্দেশনার পরদিন। ওই নির্দেশনায় তিনি বিদেশি শক্তিগুলোকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা আরব উপসাগরকে কেন্দ্র করে কোনো অশুভ নীলনকশা সাজাচ্ছে, এই অঞ্চলে তাদের জন্য কোনো জায়গা নেই।
তিনি কঠোর ভাষায় উল্লেখ করেন, আগ্রাসনকারীদের জন্য সমুদ্রের তলদেশ ছাড়া আর কোথাও ঠাঁই হবে না। সর্বোচ্চ নেতার এই অনড় অবস্থানের পরেই আইআরজিসি তাদের ২ হাজার কিলোমিটার উপকূলজুড়ে এই সুরক্ষা বলয় কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট খনিজ তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়, ফলে এই পথে ইরানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে ওমানের মুসান্দাম প্রদেশের নিকটবর্তী এই প্রণালিতে ইরানের এই আগাম তৎপরতা আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের স্বাধীনতায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।
আইআরজিসি’র এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে ইরানের প্রভাবকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে এবং একই সঙ্গে আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ও পশ্চিমা শক্তির সঙ্গে তাদের উত্তেজনার পারদ আরও উসকে দেবে।
সূত্র: গালফ নিউজ







