সারাদেশে একযোগে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭’ উদ্যাপন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের চেতনা আমাদের জাতীয় ঐক্য, সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একটি মানবিক, অসাম্প্রদায়িক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনে তার আদর্শ আমাদের পথ দেখাবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সংগ্রামে নজরুলের কবিতা ও গান মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে। তার সৃষ্টি আজও অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং ন্যায়ের পক্ষে সোচ্চার হওয়ার শক্তি জোগায়।
তিনি বলেন, বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে নতুন প্রজন্ম একদিকে যেমন জ্ঞানের বিশাল পরিসরে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছে, অন্যদিকে মূল্যবোধের সংকটও তৈরি হচ্ছে। এই বাস্তবতায় নজরুলের সাহিত্য, সংগীত ও মানবিক দর্শন নতুন প্রজন্মের সামনে নৈতিকতা, সাহস ও মানবিকতার এক শক্তিশালী আলোকবর্তিকা হয়ে উঠতে পারে।
তারেক রহমান বলেন, ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭’ উদ্যাপন কেবল আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নয়, এটি জাতীয় কবির জীবন, কর্ম ও দর্শনকে নতুন প্রজন্মের কাছে আরও গভীরভাবে পৌঁছে দেওয়ার একটি ঐতিহাসিক উদ্যোগ।
বছরব্যাপী আয়োজনের মাধ্যমে কবির সাহিত্য, সংগীত ও চিন্তাধারা দেশ-বিদেশে নতুনভাবে মূল্যায়িত হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নজরুলের চেতনা আমাদের জাতীয় ঐক্য, সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একটি মানবিক, অসাম্প্রদায়িক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনে তাঁর আদর্শ আমাদের পথ দেখাবে।
সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা।
অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নজরুল গবেষক, সংস্কৃতিকর্মী, শিল্পী ও সাহিত্যপ্রেমীরা ভার্চুয়ালি এবং সরাসরি অংশ নেন।







