রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষে সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষেই ভোট গণনা করে তাৎক্ষণিক ফল ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
বুধবার (১৯ আগস্ট) নির্বাচন ভবনে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।
১৯৯১ সালের পর প্রায় ৩৫ বছরে এবারই প্রথম একাধিক প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার।
এ বিষয়ে সিইসি বলেন, দুপুর ২টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ভোট হবে। ভোটের পরে আমরা সেখানে তাৎক্ষণিকভাবে গণনা শুরু করব। গণনার পরে নির্বাচনি কর্তা হিসেবে আমি যে ফল ঘোষণা করব, সেটাই আইন অনুযায়ী চূড়ান্ত।
তার কথায়, ‘ভোটের পরে আমরা ওখানে ইন্সট্যান্টলি (তাৎক্ষণিক) গোনা শুরু করব। গোনার পরে রেজাল্ট যেটা আমি অ্যানাউন্স করব অ্যাজ নির্বাচনি কর্তা, দ্যাট ইজ ফাইনাল অ্যাজ পার ল’।’
তিনি জানান, ভোট গণনা শেষে সেখানেই (সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে) ফল ঘোষণা করা হবে। এরপর নির্বাচন ভবনে ফিরে ওই দিনই গেজেট প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, ১৩ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে তিনটি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। এর মধ্যে বিএনপির পক্ষ থেকে একটি এবং ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে দুটি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়। বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম।
সিইসি জানান, ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। এ সময় প্রস্তাবক ও সমর্থকদের স্বাক্ষর যাচাইয়ে জাতীয় সংসদ সচিবালয় নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করে।
তিনি বলেন, সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যরা যে রেজিস্টারে স্বাক্ষর করেছিলেন, জাতীয় সংসদ সচিবালয় সেই রেজিস্টার নিয়ে আসে। এর সঙ্গে মিলিয়ে প্রস্তাবক ও সমর্থকদের স্বাক্ষর যাচাই করা হয়।
‘আমরা তিনটা মনোনয়নই বৈধ পেয়েছি। ১১ দলীয় ঐক্যের দুটোই বৈধ এবং সরকারি দল বর্তমান বিএনপির মনোনয়নটাও বৈধ,’ বলেন সিইসি।
তবে একই প্রার্থীর পক্ষে দুটি মনোনয়নপত্র জমা পড়ায় একটি মনোনয়নপত্রকে অপ্রয়োজনীয় হিসেবে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। ফলে নির্বাচনে দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোট হবে।
মনোনয়ন প্রত্যাহারের বিষয়ে সিইসি বলেন, নির্ধারিত সময়ে কেউ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ‘হাই প্রোফাইল’ উল্লেখ করে এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, রাষ্ট্রপতি (ভারপ্রাপ্ত), প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা, সব সংসদ সদস্য ও হুইপরা এ নির্বাচনে ভোটার হওয়ায় এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চপর্যায়ের নির্বাচন।
তিনি আরও জানান, চট্টগ্রাম-৪ আসন শূন্য থাকায় মোট ভোটার সংখ্যা ৩৪৯ জন। স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ করেই ভোটের তারিখ নির্ধারণ ও তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানান সিইসি।







