ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ পর্ব শেষ হয়েছে রেকর্ড আর ইতিহাসে ভরপুর একদিনে। শেষ দিনের ম্যাচগুলোতে লিওনেল মেসি, হ্যারি কেইন, লুকা মডরিচ, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, রিয়াদ মাহরেজসহ একাধিক তারকা গড়েছেন নতুন নতুন মাইলফলক।
জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারানোর ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে ফ্রি-কিক থেকে গোল করেন লিওনেল মেসি। এই গোলেই বিশ্বকাপ ইতিহাসে টানা সাত ম্যাচে গোল করা প্রথম ফুটবলার হয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
এ ছাড়া বিশ্বকাপে তার মোট গোল দাঁড়িয়েছে ১৯টি, যা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
পানামাকে ২-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইংল্যান্ড। এই ম্যাচে গোল করে হ্যারি কেইন বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন। তার গোলসংখ্যা এখন ১১, যা গ্যারি লিনেকারের ১০ গোলের রেকর্ড ভেঙেছে।
জুড বেলিংহ্যামও ম্যাচে গোল ও অ্যাসিস্ট করে গত ৬০ বছরে ইংল্যান্ডের চতুর্থ ফুটবলার হিসেবে এই কীর্তি গড়েছেন।
রোনালদোর পাশে আরেক রেকর্ড
কলম্বিয়ার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ের ম্যাচে পর্তুগালের জার্সিতে বিশ্বকাপে ২৫তম ম্যাচ খেলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।
৪০ বছর বয়সেও মডরিচের জাদু
ঘানার বিপক্ষে ক্রোয়েশিয়ার ২-১ জয়ে অ্যাসিস্ট করে ৪০ বছর ২৯১ দিন বয়সে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি বয়সী অ্যাসিস্টদাতার রেকর্ড গড়েছেন লুকা মডরিচ। একই সঙ্গে মদ্রিচ ও ইভান পেরিসিচ প্রথম ক্রোয়াট হিসেবে বিশ্বকাপে ২০টি করে ম্যাচ শুরুর একাদশে নামার কীর্তি গড়েছেন।
ডিআর কঙ্গোর ইতিহাস
উজবেকিস্তানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে ডিআর কঙ্গো। দলটির হয়ে ইয়োয়ানে উইসা তিন গোল করে এক বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে তিন গোল করা চতুর্থ আফ্রিকান ফুটবলার হয়েছেন।
মাহরেজ ও আলজেরিয়ার রেকর্ড
অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ৩-৩ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচে জোড়া গোল করে রিয়াদ মাহরেজ বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার সবচেয়ে বেশি বয়সী গোলদাতা হয়েছেন। ৩৫ বছর ১২৬ দিন বয়সে তিনি এই কীর্তি গড়েন।
অন্যদিকে ইনজুরি সময়ে সাসা কালাইজদজিচের গোল অস্ট্রিয়াকে নকআউটে তুলেছে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটিই প্রথম ম্যাচ, যেখানে যোগ করা সময়ে এক দল এগিয়ে যাওয়ার পর অপর দল সমতাসূচক গোল করেছে।
গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বকাপ এখন প্রবেশ করছে নকআউট পর্বে। তবে শেষ দিনের রোমাঞ্চ আর তারকাদের রেকর্ডে এবারের আসরের গ্রুপ পর্ব স্মরণীয় হয়ে থাকবে ফুটবলপ্রেমীদের কাছে।







