২৭তম বিসিএস: কর্মকর্তাদের যোগদান ধরা হবে ২০০৮ সাল

২৭তম বিসিএস পরীক্ষা-২০০৫ এর মাধ্যমে প্রথম পর্যায়ে সুপারিশপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে ২০০৮ সালের ১০ নভেম্বর যোগদান কার্যকরের তারিখ প্রযোজ্য হবে বলে জানিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। অর্থ বিভাগ থেকে মতামত নিয়ে এ কথা জানানো হয়েছে।

গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে ৬৭৩ জনকে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি যোগদান করতে বলে। তারা চলতি বছরের ১ জানুয়ারির আগের কোনো বকেয়া আর্থিক সুবিধা প্রাপ্য হবেন না বলে অর্থ বিভাগের মতামতে জানানো হয়।

বঞ্চিত কর্মকর্তাদের বেতন নির্ধারণ এবং পদসমতা ও আর্থিক সুবিধা, চাকরির ধারাবাহিকতা রক্ষা ও বেতন সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিষয়ে স্পষ্টীকরণ বিষয়ে গত ১৮ জুন অর্থ বিভাগ থেকে মতামত পাওয়ার পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আদেশ জারি করেছে।

বুধবার (২৪ জুন) সব সচিবের কাছে পাঠানো জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আদেশে বলা হয়, ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর প্রজ্ঞাপনমূলে যোগদান করা কর্মকর্তাদের যোগদান কার্যকরের তারিখ হিসেবে (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) ২০০৮ সালের ১০ নভেম্বর নির্ধারণ করে সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হলো।

এতে বলা হয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বরের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২৭তম বিসিএস পরীক্ষা-২০০৫ এর প্রথম পর্যায়ের মৌখিক পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত ৬৭৩ জনের মধ্য থেকে ৫৬৯ জনের চাকরিকাল গণনা, বেতন নির্ধারণ ও পদসমতা, চাকরির ধারাবাহিকতাসহ প্রজ্ঞাপনের অনুচ্ছেদ অর্থ বিভাগের মতামত পাওয়া যায়।

অর্থ বিভাগের মতামত:

চাকরিতে যোগদান কার্যকরের তারিখ নির্ধারণ
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বরের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২৭তম বিসিএসের প্রথম ভাইভার ফলাফলের ভিত্তিতে নিয়োগ করা কর্মকর্তাদের প্রকৃত যোগদানের তারিখ গত ১ জানুয়ারি নির্দিষ্ট ছিল।

আরও পড়ুন:  ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে প্রাথমিকের নিয়োগ পরীক্ষা ২৯ মার্চ
অপরদিকে, দ্বিতীয় ভাইভার ফলাফলের ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত এ ব্যাচের কর্মকর্তারা তাদের অনুকূলে জারি করা নিয়োগ প্রজ্ঞাপন অনুসারে ২০০৮ সালের ১০ থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে বিভিন্ন তারিখে যোগদান করেন। এমন আরও কয়েকটি প্রজ্ঞাপনে নির্ধারিত সময়ের ব্যাপ্তির মধ্যে যোগদান করার নির্দেশনা ছিল। সে বিবেচনায় প্রথম ভাইভার ফলাফলের ভিত্তিতে গত ১ জানুয়ারি যোগদান করা ২৭তম বিসিএসের কর্মকর্তাদের যোগদান কার্যকরের একটি সুনির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ হওয়া প্রয়োজন। যা নিম্নরূপে নির্ধারণ করা যেতে পারে– গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রথম ভাইভার ফলাফলের ভিত্তিতে গত ১ জানুয়ারি যোগদান করা কর্মকর্তাদের যোগদান কার্যকরের তারিখ হবে দ্বিতীয় ভাইভার ভিত্তিতে নিয়োগ করা কর্মকর্তাদের যোগদানের জন্য নির্ধারিত সময়সীমার শেষ তারিখ, অর্থাৎ গত ৩০ নভেম্বর ২০০৮ তারিখ অথবা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় যে তারিখ নির্ধারণ করবে সেই তারিখ।

চাকরিকাল গণনা, চাকরির ধারাবাহিকতা রক্ষা ও বেতন সংরক্ষণ
ক. যেসব কর্মকর্তা ২০০৮ সালের ১০ নভেম্বরের আগে একই পর্যায়ের (৯ম গ্রেড) বেতনে/সমবেতনে সরকারি চাকরিতে কর্মরত ছিলেন এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করাসহ বেতন সংরক্ষণের শর্তাদি প্রতিপালন করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে বিএসআর (১ম খণ্ড) এর ৪২ (২) বিধি অনুসারে বেতন সংরক্ষণের সুবিধাপ্রাপ্ত হবেন। তবে তাদের চাকরিকাল শুধু পেনশনের জন্য গণনাযোগ্য হবে।

খ. ২০০৮ সালের ১০ নভেম্বরের পূর্বে এডহক ভিত্তিতে নিয়োগকৃত, প্রকল্পের আওতায় ও বিশেষভাবে নিয়োগকৃতদের ক্ষেত্রে তাদের পূর্বের চাকরি যথাযথ বিধিবিধান অনুসরণ করে স্থায়ীকরণ, রাজস্ব খাতে নিয়মিতকরণ ও চাকরি সন্তোষজনক হয়ে থাকলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করাসহ বেতন সংরক্ষণের শর্তাদি প্রতিপালন করে থাকলে এবং ৯ম গ্রেডের সমবেতনে থাকলে তাদের চাকরি স্থায়ীকরণের তারিখ থেকে চাকরিকাল গণনা করতে হবে। এছাড়াও ৯ম গ্রেডে যোগদানের তারিখ থেকে বেতন সংরক্ষণের সুবিধাও প্রাপ্য হবেন। চাকরিকাল গণনা শুধু পেনশনের হিসাবের জন্য প্রযোজ্য হবে।

আরও পড়ুন:  ২৭তম বিসিএস থেকে নিয়োগ বঞ্চিত ৬৭৩ জনকে নিয়োগ

গ. নন-ক্যাডারের ৯ম গ্রেডের নিম্নতর গ্রেডে যারা ২০০৮ সালের ১০ নভেম্বরের আগে সরকারি চাকরিতে কর্মরত ছিলেন তাদের ক্ষেত্রে শুধু পেনশনের জন্য চাকরিকাল গণনা হবে, বেতন সংরক্ষণ প্রযোজ্য হবে না।

ঘ. এই তিনটি ক্ষেত্রের কোনোটিতেই ওই কর্মকর্তারা গত ১ জানুয়ারির আগের কোনো বকেয়া আর্থিক সুবিধা প্রাপ্য হবেন না।

বেতন নির্ধারণ
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বরের প্রজ্ঞাপন মূলে ২৭তম বিসিএস পরীক্ষা-২০০৫ এর (প্রথম ভাইভার ফলাফলের ভিত্তিতে) গত ১ জানুয়ারি যোগদানকারী কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে নিম্নরূপে মূল বেতন নির্ধারণ করা যেতে পারে–

ক. বিসিএস ২৭ ব্যাচের (প্রথম ভাইভার ফলাফলের ভিত্তিতে) কর্মকর্তাদের জন্য প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ২০০৯ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত জাতীয় বেতনস্কেল ২০০৫, ১ জুলাই ২০০৯ থেকে ৩০ জুন ২০১৫ পর্যন্ত জাতীয় বেতনস্কেল ২০০৯ ও ১ জুলাই ২০১৫ থেকে জাতীয় বেতনস্কেল ২০১৫ বিবেচনা করে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট গণনা করা।

খ. এই কর্মকর্তাদের (প্রথম ভাইভার ফলাফলের ভিত্তিতে) যোগদানের তারিখ হিসেবে ২০০৮ সালের ৩০ নভেম্বর অথবা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় যে তারিখ নির্ধারণ করবে, সে তারিখ থেকে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাৎসরিক ইনক্রিমেন্ট হিসেবে নিয়ে নবম গ্রেডে মূল বেতন নির্ধারণ করা যেতে পারে।

আরও পড়ুন:  ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা: ইসরাইল থেকে ২০ শতাংশ রিফুয়েলিং বিমান প্রত্যাহার করছে ওয়াশিংটন

গ. উপর্যুক্ত ইনক্রিমেন্ট গণনা শুধু প্রকৃত যোগদানের তারিখে (১ জানুয়ারি) মূল বেতন নির্ধারণের জন্য বিবেচ্য হবে। তবে এক্ষেত্রে কর্মকর্তারা তাদের প্রকৃত যোগদানের (১ জানুয়ারি) তারিখের পূর্বের কোনো বকেয়া আর্থিক সুবিধা প্রাপ্য হবেন না।

অর্থ বিভাগের চিঠিতে আরও বলা হয়, ২০০৮ সালের ৩০ নভেম্বরের আগে যারা ক্যাডার/নন-ক্যাডার/অন্যান্য সরকারি চাকরিতে কর্মরত ছিলেন, তাদের বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রাপ্যতা থাকলে এই মতামত অনুযায়ী বেতন সংরক্ষণের সুবিধাসহ বেতন নির্ধারণ করতে হবে।

স্থায়ীকরণ এবং যোগ্যতা সংরক্ষণ
গত ১ জানুয়ারি যোগদানের আগের ক্যাডারভিত্তিক চাকরির স্থায়ীকরণের পূর্ব শর্তগুলো অর্জন করে থাকলে এবং আগের ক্যাডার থেকে একই ক্যাডারে গত ১ জানুয়ারি যোগদান করে থাকলে সংশ্লিষ্ট ক্যাডারের জন্য তার ক্ষেত্রে অর্জিত যোগ্যতা সংরক্ষণ করা যেতে পারে।

পদসমতা
পদসমতার বিষয়ে পদসোপানভিত্তিক সরকারের বিদ্যমান বিধি/বিধানের আলোকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *