পর্যটকদের জন্য নতুন আচরণবিধি করছে দুবাই

বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন ও ব্যবসাকেন্দ্র দুবাই জনসমক্ষে আচরণ এবং বিভিন্ন উৎসব-অনুষ্ঠান উদ্‌যাপন নিয়ে নতুন সরকারি নির্দেশিকা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। শহরটিকে বিশ্বের সবচেয়ে সভ্য ও বাসযোগ্য নগরীগুলোর একটি হিসেবে আরও সুসংহত করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে দুবাই প্রশাসন।

বুধবার (২৪ জুন) ‘ইকোনমিক টাইমস’ জানিয়েছে, সম্প্রতি দুবাই সিভিলিটি কমিটির পঞ্চম বৈঠকে নতুন নির্দেশিকার ঘোষণা দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দুবাইয়ের এক্সিকিউটিভ অফিসের চেয়ারম্যান এবং কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল গেরগাওয়ি।

বৈঠকে দুটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ উন্মোচন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘দুবাই সিভিলিটি গাইডবুক’, যেখানে জনসমক্ষে আচরণের সাধারণ নীতিমালা তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি ‘বিভিন্ন উপলক্ষ উদ্‌যাপন নির্দেশিকা’ প্রণয়ন করা হবে, যাতে জনসমক্ষে উৎসব ও অনুষ্ঠান আয়োজনের সময় সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং স্থানীয় মূল্যবোধের প্রতি সম্মান নিশ্চিত করা যায়।

আরও পড়ুন:  আ.লীগের যুব ও ক্রীড়া উপ-কমিটির সদস্য হলেন আরিফুর রহমান

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব উদ্যোগের লক্ষ্য শুধু নিয়মকানুন আরোপ করা নয়; বরং ইতিবাচক সামাজিক আচরণকে উৎসাহিত করা, নগরের পরিবেশকে আরও উন্নত করা এবং সমাজে পারস্পরিক সম্প্রীতি জোরদার করা।

কমিটির ভাষ্য অনুযায়ী, ‘সভ্যতা’ বা ‘সিভিলিটি’ বলতে শুধু মানুষের আচরণ বোঝানো হচ্ছে না। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে শহরের নান্দনিকতা, দৃশ্যমান পরিচিতি, জনপরিসরের অভিজ্ঞতা এবং নাগরিকদের সামগ্রিক জীবনমান। নতুন কর্মসূচিগুলো দুবাইয়ের বৈশ্বিক ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী করার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ।

বৈঠকে শহরের ভিজ্যুয়াল পরিচিতি আরও উন্নত করতে একটি সমন্বিত আলোকসজ্জা কৌশল নিয়েও আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি নগর অভিজ্ঞতা মূল্যায়নের জন্য একটি বিস্তৃত মানদণ্ড ও মূল্যায়ন কাঠামো তৈরির পরিকল্পনাও পর্যালোচনা করা হয়েছে।

মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল গেরগাওয়ি বলেছেন—সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী এবং দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুমের দূরদর্শী নেতৃত্বে দুবাই ইতিমধ্যে সভ্যতার একটি অনন্য বৈশ্বিক মডেল গড়ে তুলেছে। এই মডেলের কেন্দ্রে রয়েছে মানুষ এবং তাদের জীবনমান উন্নয়ন।

আরও পড়ুন:  ইরাকে ৩ বাংলাদেশির মৃত্যু

গেরগাওয়ি বলেন, ‘আমরা এমন একটি সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তুলছি, যা দুবাইয়ে মানুষের জীবনযাপনের অভিজ্ঞতা, শহরের সৌন্দর্য এবং জন আচরণের মান আরও উন্নত করবে।’

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স শেখ হামদান বিন মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুমের সিদ্ধান্তে দুবাই সিভিলিটি কমিটি গঠিত হয়। কমিটির দায়িত্ব হলো সমন্বিত প্রশাসনিক কাঠামোর মাধ্যমে শহরের সভ্যতা ও জন-আচরণের মান সংরক্ষণ, মূল্যায়ন এবং আরও উন্নত করা। নতুন নির্দেশিকাগুলো কার্যকর হলে দুবাই সফরকারী পর্যটকদেরও স্থানীয় সংস্কৃতি ও সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সহজ হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *