ইরানের সঙ্গে যুদ্ধাবসান ও শান্তি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বহুল প্রতীক্ষিত চুক্তি ‘পুরোপুরি সই হয়ে গেছে’ বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তেহরান এই চুক্তিতে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করেছে কিনা, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানাননি তিনি।
ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘তেহরানের সঙ্গে একমত হওয়া চুক্তি ‘পুরোপুরি সই হয়ে গেছে’ এবং হরমুজ প্রণালির একটা অংশ ইতোমধ্যে খুলে দেওয়া হয়েছে। আগামী শুক্রবারের মধ্যে এই প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত হয়ে যাবে।
ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ‘ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে পারবে না এবং তেহরান তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি পূরণ না করা পর্যন্ত কোনো মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে না।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে তৈরি এই সমঝোতা স্মারকে ইতোমধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও দেশটির প্রধান আলোচক বাঘের গালিবাফ স্বাক্ষর করেছেন। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চুক্তির বিস্তারিত শর্ত প্রকাশ করা হতে পারে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন, ইরান যদি চুক্তির সব শর্ত মেনে চলে এবং পারমাণবিক উপকরণ ত্যাগ করে, তবে তারা উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর অর্থায়নে গঠিত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পুনর্গঠন তহবিলের সুবিধা পাবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে লেবানন পরিস্থিতির ওপর। গত ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পাশাপাশি ইসরায়েল লেবাননে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধেও অভিযান চালিয়ে আসছে। ইরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, প্রাথমিক চুক্তির শর্ত অনুযায়ী লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ থাকতে হবে। নিরাপত্তা সূত্রগুলো বলছে, চুক্তির খবর আসার পর দক্ষিণ লেবাননে সংঘর্ষের তীব্রতা কিছুটা কমলেও তা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জাহাজ মালিকদের সতর্ক করে জানিয়েছে, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত অবরোধ এখনো পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়নি।







