বাজেটে ইউটিউবার-ফ্রিল্যান্সারদের আয় হতে পারে ১০০% করমুক্ত!

দেশের তরুণ প্রজন্ম, ফ্রিল্যান্সার এবং ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে ঐতিহাসিক একটি ঘোষণা আসতে পারে। প্রযুক্তি খাতের বিকাশ, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে সব ধরনের ফ্রিল্যান্সিং ও কনটেন্ট ক্রিয়েশন থেকে অর্জিত আয়কে সম্পূর্ণ আয়কর মুক্ত করার প্রস্তাব করা হতে পারে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের নতুন প্রজন্ম ও ডিজিটাল অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সরকার বিশাল এই ছাড়ের সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

ফ্রিল্যান্সিং ও কনটেন্ট ক্রিয়েশনে ট্যাক্স একবারে ‘শূন্য’

এতদিন ফ্রিল্যান্সিং বা মেধাভিত্তিক আইটি খাতের কিছু ক্ষেত্রে জটিলতা থাকলেও, এবারের বাজেটে সুনির্দিষ্টভাবে তরুণদের ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার ও সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট ক্রিয়েশনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।বাজেটের সম্ভাব্য প্রস্তাবনা অনুযায়ী, সব প্রকার ফ্রিল্যান্সিং হতে অর্জিত আয় সম্পূর্ণ করমুক্ত থাকবে।

আরও পড়ুন:  আগামী ২ জুন জাতীয় বাজেট ঘোষণা

এছাড়া ইউটিউব, ফেসবুক বা অন্য যেকোনো প্ল্যাটফর্মে সব ধরনের কনটেন্ট ক্রিয়েশন হতে অর্জিত আয়কেও সম্পূর্ণ করমুক্ত রাখার প্রস্তাব করা হতে পারে।

এটা হলে দেশের লাখ লাখ ফ্রিল্যান্সার, ইউটিউবার এবং ইনফ্লুয়েন্সাররা তাদের কষ্টার্জিত আয়ের ওপর শতভাগ করমুক্ত সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন।

স্টার্টআপ ও প্রযুক্তি ব্যবসায় ‘জিরো’ টার্নওভার ট্যাক্স!

কেবল ব্যক্তিকেন্দ্রিক ফ্রিল্যান্সিং-ই নয়, যারা নতুন আইডিয়া নিয়ে আইটি বা প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসা শুরু করতে যাচ্ছেন, তাদের জন্যও থাকছে বড় চমক। নতুন স্টার্টআপ, উদ্ভাবনী উদ্যোগ ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার ক্ষেত্রে টার্নওভার ট্যাক্স বা ব্যবসায়িক লেনদেনের ওপর কর হার ০% (শূন্য শতাংশ) করার প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে।

নারী ও প্রতিবন্ধী আইটি উদ্যোক্তাদের জন্য অতিরিক্ত সুবিধা!

প্রযুক্তি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায় নারীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়াতে বাজেটে বিশেষ ছাড় দেওয়া হতে পারে। সাধারণ ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত টার্নওভারের আয় করমুক্ত রাখা হলেও, নারী ও প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের জন্য এই সীমা বাড়িয়ে ৭০ লাখ টাকা করা হতে পারে। অর্থাৎ, এটি কার্যকর হলে ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত টার্নওভার হলে নারী ও প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের কোনো আয়কর দিতে হবে না।

আরও পড়ুন:  অবশেষে মায়ের কাছে নাভালনির লাশ

ঢাকার বাইরে নতুন আইটি ও টেক শিল্পে বিনিয়োগে বিশেষ সুবিধা

তরুণদের কর্মসংস্থান ঢাকার বাইরে ছড়িয়ে দিতে ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকার বাইরে যেকোনো উৎপাদনমুখী শিল্প, প্রযুক্তি বা পর্যটন খাতের স্থাপনা ও যন্ত্রপাতির বিনিয়োগের ওপর বিশেষ অবচয় সুবিধা দেওয়া হতে পারে। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা প্রথম বছরে ৬০% এবং দ্বিতীয় বছরে ৪০% হারে এই ত্বরান্বিত অবচয় সুবিধা পাবেন, যা তরুণদের নতুন আইটি পার্ক বা টেক ফার্ম তৈরিতে উদ্বুদ্ধ করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *