কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন সিরাজগঞ্জের চৌহালী আমলী আদালত।
মঙ্গলবার বিচারক সুমন কর্মকার এ আদেশ দেন।
মামলার বাদী ও সিরাজগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির কর্নেল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিএনপি নেতা ও মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার অভিযোগে জেলা বিএনপির নির্দেশে তিনি মানহানির এ মামলা দায়ের করেন। মামলার পর আদালত মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে সমন জারি করলেও নির্ধারিত তারিখে তিনি আদালতে হাজির হননি।
শুনানির সময় বাদীপক্ষ আদালতকে জানায়, সমন পাওয়ার পরও অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতের নির্দেশ অমান্য করেছেন। এ কারণে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হয়। এ সময় আদালত জানতে চান, সংসদ অধিবেশন চলাকালে কোনো সংসদ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব কি না। জবাবে বাদীপক্ষের আইনজীবী বলেন, সংসদ সদস্যকে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে স্পিকারের অনুমতি প্রয়োজন হলেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করতে আইনি কোনো বাধা নেই।
পরে আদালত বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। আইনজীবী হুমায়ুন কবির বলেন, এখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রযোজ্য আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।
মামলার সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ মার্চ এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে মুফতি আমির হামজা বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে ‘নাস্তিক’ ও ‘ইসলামবিদ্বেষী’ বলে মন্তব্য করেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করা হয়। এর আগে চলতি মাসের ২ এপ্রিল তাকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে সমন জারি করা হয়েছিল।
তবে নির্ধারিত দিনে আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় বিচারক এই আদেশ দেন। উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে এটিই প্রথম গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির ঘটনা বলে জানা গেছে।
মুফতি আমির হামজা সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসন থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন।







