হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরান ‘যা করছে তা চুক্তিতে নেই’: ট্রাম্প

ইরান হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল সীমিত এবং টোল (নির্ধারিত ফি) আরোপের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সে বিষয়ে নাখোশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহনের ক্ষেত্রে ইরানের পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া চুক্তির সঙ্গে মিলছে না।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগের প্লাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্প এ কথা বলেন।

ট্রাম্প সেখানে লেখেন, “হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল চলাচল নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ইরান ‘খুবই খারাপ কাজ’ করছে।

কেউ কেউ এটিকে অসম্মানজনকও বলবেন। ইরান যা করছে, তা ‘আমাদের সঙ্গে হওয়া চুক্তিতে নেই’।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলো থেকে ইরান ‘যেন ফি না নেয়’ সে বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে যে ট্যাংকারগুলো থেকে ইরান ফি নিচ্ছে। এমনটা যেন তারা না করে।

আরও পড়ুন:  চট্টগ্রামে বৈষম্যবিরোধীদের নতুন কমিটি ঘিরে অসন্তোষ, সড়ক অবরোধ
যদি করেও থাকে, তাহলে এখনই তা বন্ধ করা উচিত।”

ট্রাম্পের এই বক্তব্যে চুক্তির ভঙ্গুর দশাই উঠে আসছে। এটি মূলত চুক্তির কার্যকারিতার বদলে সেখানে কী অন্তর্ভুক্ত ছিল আর কী নেই, তা নিয়ে মতবিরোধ স্পষ্ট করে দিয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনীর একটি লিখিত বার্তা প্রচার করা হয়। যেখানে তিনি বলেন– তেহরান সরকার হরমুজ প্রণালীর ব্যবস্থাপনাকে একটি নতুন পর্যায়ে নিয়ে যাবে।

রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা তাস জানিয়েছে, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর এখন থেকে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১৫টি জাহাজ এই পথ ব্যবহার করতে পারবে। এর আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৪০টি জাহাজ চলাচল করত এই প্রণালী দিয়ে। ফলে নতুন সিদ্ধান্তে জাহাজ চলাচল প্রায় ৯০ শতাংশ কমে যাচ্ছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

আরও পড়ুন:  নৌকার মনোনয়নে উচ্চ শিক্ষিত ও করোনাকালীন ভূমিকা বিবেচনা করা হচ্ছে

ইরানের একটি জ্যেষ্ঠ সরকারি সূত্র জানিয়েছে, এখন থেকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণভাবে ইরানের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে। এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রটোকল মেনে চলতে হবে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকি করবে দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, যুদ্ধের আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই এই প্রণালীতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়, যার প্রভাব পড়ে বিশ্ববাজারে তেলের দামে।

যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী প্রণালীটি আবার চালু করা হলেও কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখছে তেহরান। নতুন নিয়মে প্রতিটি জাহাজকে আগে থেকেই আইআরজিসির অনুমতি নিতে হবে এবং নির্ধারিত ট্রানজিট ফি পরিশোধ করতে হবে।

আরও পড়ুন:  বাংলাদেশে শান্তিরক্ষী পাঠাতে ভারতের লোকসভায় প্রস্তাব

এদিকে শুধু হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়েই নয়; যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে হওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে আরও নানামুখী টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। কারণ, যুদ্ধবিরতির শর্তে লেবাননের ওপর হামলা বন্ধ করার কথা থাকলেও ইসরায়েল হামলা চালিয়েই যাচ্ছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ইসরায়েলি হামলায় গতকালও ৩০৩ জন নিহত হয়েছেন। এরই মধ্যে যুক্তরাজ্যসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইসরায়েলকে এই হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।

(সূত্র: বিবিসি বাংলা)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *