যুদ্ধ বন্ধে ইরানকে পাঁচবার সময়সীমা দিলেন ট্রাম্প, বললেন ‘এটিই চূড়ান্ত’

ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া যুদ্ধবিরতির পাল্টা প্রস্তাবকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে অভিহিত করলেও তা পর্যাপ্ত নয় বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে তার নির্ধারিত মঙ্গলবারের সময়সীমা বা ডেডলাইন চূড়ান্ত উল্লেখ করে কোনোভাবেই তা পরিবর্তন করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।

আজ সোমবার (৬ এপ্রিল) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এই চূড়ান্ত সতর্কবার্তা প্রদান করেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, ইরান একটি প্রস্তাব দিলেও তা সংকট নিরসনে যথেষ্ট ভূমিকা রাখতে পারছে না। তেহরানকে ঠিক কী করতে হবে সেটি তারা ভালো করেই জানে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, প্রয়োজনীয় শর্তগুলো মেনে চললে এই যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়া সম্ভব। তবে তিনি মনে করেন, ইরান বর্তমানে কিছুটা সদিচ্ছা নিয়েই আলোচনার টেবিলে রয়েছে।

ইরান যুদ্ধের বিরোধিতা করছেন এমন ব্যক্তিদের কড়া সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই লড়াইয়ের মূল উদ্দেশ্য হলো ইরান যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে তা নিশ্চিত করা। যারা এই অবস্থানের বিরোধিতা করছেন, তাদের নির্বোধ হিসেবে আখ্যা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

আরও পড়ুন:  যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীকে সতর্ক করলেন ট্রাম্প

ইরানের তেলের নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে ট্রাম্প তার আকাঙ্ক্ষার কথা সরাসরি ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, মার্কিন জনগণের ইচ্ছার কারণে তাদের ফিরে যেতে হচ্ছে, নয়তো তার ব্যক্তিগত ইচ্ছা ছিল ইরানের তেলক্ষেত্রগুলো নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করা। বর্তমানে দেশটির তেলের ওপর অন্য কারো নিয়ন্ত্রণ করার কিছু নেই বলেও তিনি দাবি করেন।

যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া প্রসঙ্গে ট্রাম্প তার হাতে থাকা বিকল্পগুলোর কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনই সরে যেতে পারে, তবে ইরান তাদের আগের অবস্থায় ফিরতে অন্তত ১৫ বছর সময় নেবে। যুদ্ধ এখনই শেষ করতে চাইলেও তেহরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ চিরতরে বন্ধ করাই তার মূল লক্ষ্য।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প তার চূড়ান্ত আলটিমেটামের সময়কাল স্পষ্ট করেছেন। তার দেওয়া ঘোষণা অনুযায়ী, ইস্টার্ন টাইম মঙ্গলবার রাত ৮টার মধ্যে দাবি মানতে হবে। এই সময়সীমা অনুযায়ী তেহরানে তখন বুধবার ভোর এবং বাংলাদেশে সময় হবে বুধবার সকাল ৬টা।

আরও পড়ুন:  শপথ নিলেন বিএনপির সংসদ সদস্যরা

উল্লেখ্য, এর আগেও কয়েক দফায় আলটিমেটাম দিয়েছিলেন ট্রাম্প।

প্রথম আলটিমেটাম (২১ মার্চ): ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরান যদি নৌপথটি খুলে না দেয়, তবে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ‘পুরোপুরি গুঁড়িয়ে’ দেওয়া হবে। বিশেষ করে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে আগে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দেন তিনি।

দ্বিতীয় আলটিমেটাম (২৩ মার্চ): দুই দিন পর ট্রাম্পের সুর কিছুটা নরম হয়। দুই দেশের মধ্যে ‘খুবই ফলপ্রসূ আলোচনা’ হয়েছে দাবি করে তিনি জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার সিদ্ধান্ত পাঁচ দিনের জন্য পিছিয়ে দেন।

তৃতীয় আলটিমেটাম (২৭ মার্চ): ট্রাম্প জানান, ‘ইরান সরকারের অনুরোধে’ তিনি বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার পরিকল্পনা আরও ১০ দিন পিছিয়ে দিচ্ছেন। এর ফলে নতুন সময়সীমা দাঁড়ায় ৬ এপ্রিল।

৪৮ ঘণ্টার চূড়ান্ত সতর্কতা (৪ এপ্রিল): ৬ এপ্রিলের ডেডলাইন ঘনিয়ে আসায় গতকাল ট্রাম্প ইরানকে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, তাদের হাতে আর মাত্র ‘৪৮ ঘণ্টা’ সময় আছে। এরপর তিনি দেশটিতে ‘নরক’ বানিয়ে ছাড়বেন।

আরও পড়ুন:  একাত্তরে বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু সাংবাদিক মার্ক টালি

সর্বশেষ হুমকি (৫ এপ্রিল): গতকাল আবারও নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একই হুমকির পুনরাবৃত্তি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, চুক্তি করতে রাজি না হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শেষ কথা অনুযায়ী, মঙ্গলবারের এই সময়সীমার পর আর কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। চুক্তি অনুযায়ী ইরান প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিলে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলো ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন তিনি। এই চরম উত্তেজনার মধ্যেই বিশ্ব এখন মঙ্গলবারের ডেডলাইনের দিকে তাকিয়ে আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *