আন্তর্জাতিক ফুটবলের মঞ্চ থেকে রাজকীয় ও আবেগঘন এক সমাপ্তি টেনে বিদায় নিলেন আর্জেন্টিনার মহাতারকা লিওনেল মেসি। বুয়েনস এইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্টালে বেনিনের বিপক্ষে জাতীয় দলের জার্সিতে ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচে একটি গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট করেন কিংবদন্তি এই ফরোয়ার্ড। দলের অধিনায়কের এমন দ্যুতিময় নৈপুণ্যে ভর করে ৩-০ গোলের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
বিদায়ের এই বিশেষ মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে ম্যাচ শুরুর আগেই স্টেডিয়ামের মাঠে মেলে ধরা হয় ‘গ্রাসিয়াস’ খচিত সুবিশাল ১০ নম্বর জার্সি। ম্যাচের দশম মিনিটে খেলা সাময়িকভাবে থামিয়ে করতালির মাধ্যমে ফুটবলের এই মহানায়ককে বিশেষ সম্মান জানায় পুরো স্টেডিয়াম, যার সাথে মিলিয়ে গ্যালারিজুড়ে ধ্বনিত হতে থাকে ‘মেসি, মেসি’ স্লোগান। প্রথমার্ধে মেসির দূরপাল্লার শট, ফ্রি-কিক এবং লাওতারো মার্তিনেজের পাসে নেওয়া চমৎকার ভলি থেকে গোল না এলেও দ্বিতীয়ার্ধে পুরোপুরি বদলে যায় খেলার দৃশ্যপট।
বিরতির ঠিক পরপরই ৪৮তম মিনিটে মেসির নেওয়া কর্নার কিক থেকে হেড করে দলকে এগিয়ে নেন জাতীয় দলের জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলতে নামা অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দি। এরপর ৬০তম মিনিটে মেসির তৈরি করে দেওয়া আরেকটি দারুণ সুযোগ কাজে লাগিয়ে চমৎকার বাঁকানো শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন নিকো পাজ। ম্যাচের ৭১তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠিয়ে নিজের বিদায়ী ম্যাচে কাঙ্ক্ষিত গোলটি আদায় করে নেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক, যা ছিল জাতীয় দলের হয়ে তাঁর ১২৬তম আন্তর্জাতিক গোল।
বিদায়ের প্রাক্কালে দেওয়া এক আবেগাপ্লুত বার্তায় মেসি নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেছিলেন, ‘আমি শান্তিতে বিদায় নিচ্ছি, নিজের সবটুকু দিয়েছি। এই জার্সি ছিল আমার স্বপ্ন, গর্ব ও জীবন।’
২০০৫ সালে অভিষেকের পর দীর্ঘ ২১ বছরের বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে বহু চড়াই-উতরাই ও অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০২২ সালে দেশকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করেছিলেন মেসি। পরিশেষে নিজের চিরচেনা ফুটবল শৈলী, গোল ও অ্যাসিস্টের অনন্য প্রদর্শনীতে ভর করেই আন্তর্জাতিক ফুটবলের মহাকাব্যিক অধ্যায়ের ইতি টানলেন আর্জেন্টিনার এই কিংবদন্তি।







