হাদির নাম মুছে আগের নামেই ফিরছে ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে থেকে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ লেখা মুছে ফেলা হয়েছে। বুধবার দুপুরে হলের মূল ফটক ও ভেতরের ভবনসংলগ্ন গেট থেকে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ লেখা মুছে সাদা রং করা হয়। এদিন বেলা ২টার দিকে মোছার কার্যক্রম শুরু হয়। 

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মুছে ফেলা অংশে নতুন করে কোনোকিছু লেখা হয়নি।

তবে কেন মুছে ফেলা হয়েছে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান। সমকালকে তিনি বলেন, ‘হলে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলছে। হলের চারপাশ পরিষ্কার ও দেয়ালে কিছু লেখা থাকলে সেটা মুছে ফেলার নির্দেশনা হিসেবেই হতে পারে গেটে শিক্ষার্থীদের লেখাটা মুছে ফেলা হয়েছে। তবে সুনির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা আছে কি না আমি এখনও জানি না।’

আরও পড়ুন:  সাংবাদিকের সঙ্গে প্রেম করার ১১ সুবিধা

তিনি আরও বলেন, ‘আমি অসুস্থ থাকায় হলে যেতে পারিনি। যেদিন হলে যাবো বিস্তারিত জানতে পারবো। তবে হলের নাম পরিবর্তন হয়নি। এখনও পর্যন্ত হলের নাম শেখ মুজিবুর রহমান হল।’

শেখ মুজিবুর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষক খোরশেদ আলম সমকালকে বলেন, ‘হলের নাম পরিবর্তনের জন্য হল থেকে সিন্ডিকেটে একটি চিঠি গিয়েছিলো কিন্তু নাম পরিবর্তনের জন্য সিন্ডিকেট কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। ফলে আগে যে নাম ছিলো সেটিই বহাল থাকছে।’

হল সংসদ এ বিষয়ে কিছু জানে না জানিয়ে শেখ মুজিবুর রহমান হলের ভিপি মুসলিমুর রহমান বলেন, ‘আমরা শেখ মুজিবের নাম পরিবর্তনের পক্ষে। তার নাম পরিবর্তন হয়ে সেটা ওসমান হাদি হোক কিংবা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নামে হোক— এতে সমস্যা নেই, আমরা পরিবর্তনের পক্ষে। আমাদের দাবি হচ্ছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো হল ফ্যাসিস্টের নামে না থাকুক। বিশ্ববিদ্যালয় যেহেতু আমাদের দাবিটা এখনো অধিকতর বিবেচনার জন্য রেখে দিয়েছে, আমরা দাবি জানাব, যত দ্রুত সম্ভব এটার একটা সুরাহা হোক।’

আরও পড়ুন:  যুগ্ম সচিব পদে ১৯৬ কর্মকর্তার পদোন্নতি

বিকেলে ওই হলের সামনে গিয়ে ‘শরীফ ওসমান হাদি হল’ লেখা অংশগুলো সাদা রঙে ঢাকা দেখা যায়। রংমিস্ত্রি মো. ওয়াহিদুজ্জামান মুছে ফেলার কাজটি করেন বলে জানা গেছে।

প্রসঙ্গত, গত ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর শেখ মুজিবুর রহমান হলের গেটের আগের নামফলক মুছে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ লেখা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

four × three =