স্ত্রীর মৃত্যুর পরদিনই হাসপাতালে ভর্তি মাহাথির মোহাম্মাদ

স্ত্রীর মৃত্যুর একদিন পরেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদকে। জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে পর্যবেক্ষণের জন্য তাকে কুয়ালালামপুরের ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউটে (আইজেএন) নিয়ে যাওয়া হয়।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ১০০ বছর বয়সে মারা যান মাহাথিরের স্ত্রী সিতি হাসমাহ মোহাম্মদ আলি।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১০১ বছর বয়সী মাহাথিরকে নিয়মিত চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল। তার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগের কোনো কারণ নেই বলে জানিয়েছেন তার দ্বিতীয় সন্তান মোখজানি মাহাথির।

৬৫ বছর বয়সী মোখজানি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বার্নামাকে বলেন, বাবাকে পর্যবেক্ষণে রাখতেই আইজেএনে ভর্তি করা হয়েছে। গত দুই দিন মাহাথিরের জন্য বেশ চাপের ছিল। তবে আপাতত তিনি ভালো আছেন।

আরও পড়ুন:  মালয়েশিয়ার সঙ্গে পাঁচটি সমঝোতা স্মারক ও তিনটি নোট বিনিময় স্বাক্ষর

মাহাথিরের প্রেস সেক্রেটারি সুফি ইউসুফ জানিয়েছেন, স্ত্রীর মৃত্যুর পর মাহাথির ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম পাচ্ছিলেন না। চিকিৎসকরা তার বিষয়ে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চূড়ান্ত মূল্যায়নের অপেক্ষায় রয়েছেন।

নিউ স্ট্রেইটস টাইমসকে সুফি বলেন, মানসিক অস্থিরতা, প্রচণ্ড গরম আবহাওয়া ও বিশ্রামের ঘাটতির কারণে মাহাথির ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। ১০১ বছর বয়সী একজন মানুষের জন্য এসব সমস্যা একসঙ্গে হওয়া ভালো নয়।

মাহাথিরের হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যার ইতিহাস রয়েছে। এর আগে তার বাইপাস সার্জারিও হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাকে বেশ কয়েকবার হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। সর্বশেষ জানুয়ারিতে পড়ে গিয়ে কোমরের হাড় ভাঙার পর তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিলেন।

৭০ বছরের দাম্পত্যের অবসান

মাহাথিরের স্ত্রী সিতি হাসমাহ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউটেই ১০০ বছর বয়সে মারা যান। তার শেষকৃত্য রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন হয় ও একই দিন পুত্রজায়ার ন্যাশনাল মসোলিয়ামে তাকে সমাহিত করা হয়।

আরও পড়ুন:  মাহাথির মোহাম্মদের স্ত্রী সিতি হাসমাহর মৃত্যু

চিকিৎসাবিদ্যায় প্রশিক্ষিত মাহাথির ও হাসমাহ ১৯৫৬ সালে বিয়ে করেছিলেন। গত আগস্টে তারা ৭০ বছরের দাম্পত্যজীবন পূর্ণ করেন। তাদের সাত সন্তান রয়েছে।

হাসমাহর মৃত্যুর পর মাহাথিরকে শেষকৃত্যের পুরো সময় পরিবারের সঙ্গে থাকতে দেখা যায়। সাত দশকের সঙ্গীর শেষ বিদায়ে তিনি চরমভাবে শোকাহত হয়েছেন।

সূত্র: সিএনএ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

nineteen − eight =