বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা। তবে ম্যাচ শুরুর আগেই আলোচনায় এসেছে আলবিসেলেস্তেদের জার্সির রং। নিয়মিত সাদা-আকাশি নয়, এবার নীল জার্সি গায়েই মাঠে নামবে লিওনেল স্কালোনির দল। এর পেছনে রয়েছে শুধু টুর্নামেন্টের নিয়ম নয়, ইতিহাস, আবেগ এবং কিছু অবিস্মরণীয় স্মৃতিও।
আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড দ্বৈরথ মানেই ফুটবলের গণ্ডি ছাড়িয়ে ইতিহাসের এক বিশেষ অধ্যায়। ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধ, ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ডিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল ও ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’, আবার ১৯৯৮ সালে ডেভিড বেকহাম ও দিয়েগো সিমিওনের বিতর্কিত ঘটনার মতো বহু স্মৃতি জড়িয়ে আছে এই লড়াইয়ের সঙ্গে।
সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করার পরই ফিফার কাছে নীল জার্সি পরে খেলার অনুমতি চেয়েছিল আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। কারণ, ১৯৮৬ সালের সেই ঐতিহাসিক কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর সময়ও নীল জার্সি পরেই খেলেছিল আর্জেন্টিনা। ওই ম্যাচে ম্যারাডোনার দুটি গোলই আজও বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত মুহূর্ত।
একই নীল জার্সি পরে ১৯৯৮ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতেও ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচে ডেভিড বেকহাম দিয়েগো সিমিওনেকে লাথি মেরে লাল কার্ড দেখেছিলেন। নির্ধারিত সময় ২-২ গোলে শেষ হওয়ার পর টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জয় পায় আর্জেন্টিনা।
অন্যদিকে ২০০২ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নীল নয়, নিজেদের ঐতিহ্যবাহী সাদা-আকাশি জার্সি পরে মাঠে নেমেছিল আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচে ডেভিড বেকহামের একমাত্র গোলে হেরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের। ফলে নীল জার্সির সঙ্গে আর্জেন্টিনার ইতিবাচক স্মৃতির সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে।
জার্সি নির্বাচনের বিষয়টিও নির্ধারিত হয়েছে ফিফার নিয়ম অনুযায়ী। সেমিফাইনালে আগে জায়গা নিশ্চিত করায় ইংল্যান্ডকে ‘টিম এ’ হিসেবে ধরা হয়েছে। এই মর্যাদার কারণে নিজেদের জার্সি বেছে নেওয়ার অধিকার ছিল ইংলিশদের। তারা হোম কিট—সাদা জার্সি, সাদা শর্টস ও সাদা মোজা—নির্বাচন করায় ‘টিম বি’ আর্জেন্টিনার জন্য অ্যাওয়ে কিট, অর্থাৎ নীল জার্সি, নীল শর্টস ও নীল মোজা নির্ধারিত হয়েছে।
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, দুই দলের জার্সির রং এমন হতে হয় যাতে সাদা-কালো সম্প্রচারেও দল দুটিকে সহজে আলাদা করা যায়। পাশাপাশি বর্ণান্ধ দর্শকদের সুবিধার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়। এজন্য ‘স্পেক্ট্রোফটোমিটার’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে জার্সির রঙের পার্থক্য নিশ্চিত করা হয়।
সব মিলিয়ে, এবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার নীল জার্সি শুধু টুর্নামেন্টের নিয়মের ফল নয়; এটি ইতিহাস, কুসংস্কার, আবেগ এবং অতীতের গৌরবময় স্মৃতিরও এক প্রতীক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *