বিশ্বকাপের ফাইনালের দুয়ারে দাঁড়িয়ে আজ মুখোমুখি হবে ফুটবল বিশ্বের দুই পরাশক্তি আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় দিনগত রাত ১টায় শুরু হবে মর্যাদা, গৌরব এবং ফাইনালের টিকিটের লড়াই।

নব্বই মিনিটের এই মহারণে সামান্য একটি ভুলও বদলে দিতে পারে ম্যাচের ভাগ্য। দুই দলই শিরোপার স্বপ্নে বিভোর। তবে চলতি আসরে দেখানো ফুটবল, দলীয় ভারসাম্য, কৌশলগত পরিপক্বতা এবং বড় ম্যাচে চাপ সামলানোর অভিজ্ঞতার বিচারে আর্জেন্টিনাকে খানিকটা এগিয়ে রাখার মতো যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

মেসির ক্যারিশমাটিক পারফরম্যান্স

বয়সটা ৩৯ বছর। কিন্তু সেটিকে হার মানিয়ে মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন লিওনেল মেসি। পুরো ৯০ মিনিটজুড়ে তার ক্লান্তিহীন দৌড়, ক্ষিপ্র মুভমেন্ট, নিখুঁত পাস এবং বলের ওপর অসাধারণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিপক্ষের রক্ষণকে বারবার চাপে ফেলে। গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে গোল করানো এবং ম্যাচের ছন্দ নিয়ন্ত্রণেও তিনি অনন্য। বড় ম্যাচ যত কঠিন হয়, মেসির প্রভাবও তত বাড়তে থাকে। সেমিফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে তার নেতৃত্ব, অভিজ্ঞতা এবং ক্যারিশমাটিক ফুটবলই আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় ভরসা।

আরও পড়ুন:  চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ আজ

মাঝমাঠে একচ্ছত্র আধিপত্য

ফুটবলের বড় ম্যাচের ভাগ্য অনেক সময় নির্ধারিত হয় মাঝমাঠের লড়াইয়ে। আর সেই জায়গাতেই আর্জেন্টিনা নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়ে চলেছে। রদ্রিগো ডি পল, এনজো ফার্নান্দেজ ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের বোঝাপড়া যেন এক নিখুঁত ছন্দে বাঁধা। বলের দখল ধরে রাখা, মুহূর্তের মধ্যে রক্ষণ থেকে আক্রমণে উঠে আসা, প্রতিপক্ষের পাসের পথ বন্ধ করে দেওয়া এবং ম্যাচের গতি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার কাজ তারা অসাধারণ দক্ষতায় করে যাচ্ছেন। তাদের নিরলস পরিশ্রমে মেসিও আক্রমণে আরও স্বাধীনভাবে খেলতে পারেন। মাঝমাঠে এই কর্তৃত্ব ধরে রাখতে পারলে ইংল্যান্ডের জন্য নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে উঠবে।

আক্রমণে বহুমাত্রিক শক্তি

আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে আক্রমণভাগে। এখন আর পুরো দল একজনের ওপর নির্ভরশীল নয়। হুলিয়ান আলভারেজ, লাউতারো মার্টিনেজ, থিয়াগো আলমাদা এবং জুলিয়ানো সিমিওনের মতো ফুটবলাররা নিয়মিত গোলের সুযোগ তৈরি করছেন। আবার প্রয়োজনের মুহূর্তে গোলও করছেন। ফলে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ যদি মেসিকে থামানোর দিকেই বেশি মনোযোগ দেয়, তাহলে অন্যদের জন্য জায়গা তৈরি হয়ে যায়। আক্রমণের এই বৈচিত্র্য ইংল্যান্ডের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

আরও পড়ুন:  বিশ্ব এখন বৃহৎ যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে : জাতিসংঘ মহাসচিব

স্কালোনির কৌশলগত প্রজ্ঞা

লিওনেল স্কালোনি আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা মাস্টারমাইন্ড হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে পরিকল্পনা বদলানো, কার্যকর বদলি নামানো এবং প্রতিপক্ষের দুর্বল জায়গায় আঘাত হানার ক্ষেত্রে তিনি অসাধারণ দক্ষ। পুরো টুর্নামেন্টেই তার সিদ্ধান্তগুলো আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে রেখেছে। সেমিফাইনালের মতো হাইভোল্টেজ ম্যাচেও তার কৌশলই হতে পারে দলের সবচেয়ে বড় শক্তি।

বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মানসিক দৃঢ়তা

চাপের মুহূর্তে ভেঙে না পড়ে ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিকতা বর্তমান আর্জেন্টিনা দলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। চলতি বিশ্বকাপে প্রতিকূল পরিস্থিতি সামলে একাধিকবার জয় তুলে এনেছে তারা। শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতা, নিজেদের পরিকল্পনায় অটল থাকা এবং সুযোগ পেলেই আঘাত হানার অভ্যাস এই দলকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। বিশ্বচ্যাম্পিয়নের আত্মবিশ্বাস, অভিজ্ঞতা এবং জয়ের সংস্কৃতি সেমিফাইনালের মতো বড় মঞ্চে আর্জেন্টিনাকে বাড়তি শক্তি জোগাতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *