আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এপেক্স বাংলাদেশ-এর বর্ণাঢ্য ন্যাশনাল কনভেনশন-২০২৬ রাজধানী ঢাকার মতিঝিলে অবস্থিত কিচেন ইয়ার্ড রেস্টুরেন্টে শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশব্যাপী সংগঠনের বিভিন্ন জেলা, ক্লাব ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের শতাধিক প্রতিনিধি, সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে আগামী এক বছরের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি নতুন জাতীয় নেতৃত্বের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়।
সকাল ১০টায় অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে সংগঠনের ঐতিহ্য, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরে উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করা হয়। দিনব্যাপী বিভিন্ন অধিবেশনে বিগত বছরের কার্যক্রম মূল্যায়ন, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, সাংগঠনিক সম্প্রসারণ, সদস্য উন্নয়ন, যুব নেতৃত্ব সৃষ্টি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জোরদার এবং সমাজসেবামূলক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
বক্তারা বলেন, “Serve Humanity”—এই বছরের প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এপেক্স বাংলাদেশ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে আরও বেশি সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, দুর্যোগ মোকাবিলা, বৃক্ষরোপণ, রক্তদান, পরিবেশ সংরক্ষণ, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সহায়তা এবং মানবিক সংকটে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ আরও জোরদার করা হবে।
সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ২০২৬ মেয়াদের নতুন জাতীয় বোর্ড ঘোষণা। সর্বসম্মতিক্রমে গঠিত নতুন জাতীয় নেতৃত্বে নির্বাচিত হয়েছেন— ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট (NP): অ্যাডভোকেট শওকত আলী পিন্টু, ন্যাশনাল ভাইস প্রেসিডেন্ট (NVP): নজরুল ইসলাম, ইমিডিয়েট পাস্ট ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট (IPNP): মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া,ন্যাশনাল ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনস ডিরেক্টর (NIRD): আর্কিটেক্ট কামরুজ্জামান অপু, ন্যাশনাল ইয়ুথ অ্যান্ড ক্লাব ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর (NYCD): সরোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, ন্যাশনাল সার্ভিস ডিরেক্টর (NSD): অ্যাডভোকেট ফেরদৌস সেলিম, ন্যাশনাল এক্সটেনশন ডিরেক্টর (NED): রিংকু , ন্যাশনাল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ডিরেক্টর (NAD): অ্যাডভোকেট জিয়ন, ন্যাশনাল এক্সটেনশন সেক্রেটারি (NES): ইঞ্জিনিয়ার শরীফ বাবু।
এছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলার দায়িত্বে ডিস্ট্রিক্ট গভর্নর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন—ডিজি-১ নুরুল কবির মামুন, ডিজি-২ ডা. আরেফিন, ডিজি-৩ ইয়াসির আরাফাত চৌধুরী, ডিজি-৬ অ্যাডভোকেট চন্নু সিদ্দিকী এবং ডিজি-৭ মশিউর রহমান।
ন্যাশনাল প্রোগ্রাম কোর্ডিনেটর সাংবাদিক এম সোহেল মাহমুদ।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। লাইফ গভর্নর প্রফেসর কুদরত-এ-খুদা বলেন, “এপেক্স একটি আন্তর্জাতিক পরিবার। এখানে নেতৃত্বের চেয়ে বড় বিষয় হলো মানবসেবা, বন্ধুত্ব এবং আদর্শ নাগরিক গড়ে তোলা।” তিনি নতুন নেতৃত্বকে সততা, স্বচ্ছতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
লাইফ গভর্নর ইঞ্জিনিয়ার পারভেজ আহমেদ বলেন, “আজকের পৃথিবীতে মানবিক মূল্যবোধের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। এপেক্স সেই মূল্যবোধকে সমাজে প্রতিষ্ঠা করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। নতুন নেতৃত্ব এ ধারাবাহিকতাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের বরেণ্য এপেক্স ব্যক্তিত্ব এস. কে. দত্ত অনুপ, রুহুল মঈন চৌধুরী, আরমান চৌধুরী, অ্যাডভোকেট মাকসুদুর রহমান, শরীফ ভূঁইয়াসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও ক্লাবের নেতৃবৃন্দ।
নবনির্বাচিত ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট অ্যাডভোকেট শওকত আলী পিন্টু বলেন, “এপেক্স বাংলাদেশের প্রতিটি সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে আমরা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মানবসেবার কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করব। প্রযুক্তিনির্ভর ও স্বচ্ছ সাংগঠনিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে এপেক্সের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
নবনির্বাচিত ন্যাশনাল সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট কে. এম. টিপু সুলতান বলেন, “সংগঠনের মূলমন্ত্র Service, Good Citizenship and Fellowship বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জাতীয় বোর্ড ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে। দেশের প্রতিটি ক্লাবকে আরও সক্রিয়, গতিশীল ও জনমুখী করে তোলা হবে।”
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এপেক্স অস্ট্রেলিয়ায় প্রতিষ্ঠিত হলেও বাংলাদেশে ১৯৬১ সাল থেকে সফলতার সঙ্গে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এটি একটি অরাজনৈতিক, অলাভজনক ও সেবামূলক সংগঠন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সংরক্ষণ, রক্তদান, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মানবিক সহায়তামূলক নানা কর্মসূচির মাধ্যমে সংগঠনটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।
দিনব্যাপী আলোচনা, মতবিনিময়, কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ এবং নতুন নেতৃত্বকে দায়িত্ব অর্পণের মধ্য দিয়ে কনভেনশনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। উপস্থিত সদস্যরা আশা প্রকাশ করেন, নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে এপেক্স বাংলাদেশ আগামী দিনে মানবসেবা, সুশাসন, নাগরিক দায়িত্ববোধ ও আন্তর্জাতিক ফেলোশিপের চেতনাকে আরও সুদৃঢ় করবে।







