শহীদ মিনারে প্রকাশ্যে গুলি করে কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে হত্যা, আটক ১

রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাকিবুল ইসলাম (২৭) নামের এক যুবককে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। আহত রাকিব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করতেন। এই ঘটনায় পথচারীরা একজনকে আটক করে শাহবাগ থানা-পুলিশে দিয়েছেন। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

আজ রোববার রাত সোয়া ৯টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় রাকিবুল ইসলামকে গুলি করা হয়। পরে সেখানে থাকা তাঁর বন্ধুবান্ধব ও পথচারীরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাত সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

রাকিবুল ইসলামকে হাসপাতালে নিয়ে আসা জি এম ইশান নামের এক তরুণ ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, রাতে তাঁরা কয়েকজন বন্ধু মিলে শহীদ মিনারের পাশে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এমন সময় হঠাৎ কয়েকটি গুলির শব্দ পান। এগিয়ে গিয়ে দেখেন রাকিবুল ইসলাম রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। এরপর দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন তাঁরা। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

আরও পড়ুন:  মেজর সিনহা হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ওসি প্রদীপ, গুলি করেন লিয়াকত

হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিহত রাকিবুল ইসলামের বন্ধু মো. রনি বলেন, ‘রাতে রাকিবসহ আমরা কয়েকজন বন্ধু শহীদ মিনারের পাশে চায়ের দোকানে চা খাচ্ছিলাম। এ সময় এক যুবক তাঁকে ডেকে নিয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পর গুলির শব্দ পেয়ে শহীদ মিনারের ওপরে গিয়ে দেখি রাকিব রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। সে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়। এ ছাড়া শরীরের একাধিক জায়গায় ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। এরপর সেখানে থাকা লোকজন দৌড়ে একজনকে ধরে ফেলে। সে শাহবাগ থানা হেফাজতে রয়েছে।’

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের সহকারী কমিশনার (এসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এক ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে ৪টি গুলি করা হয়। হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:  এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নতুন কর্মসূচি ‘মার্চ টু সচিবালয়’

রাকিবুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করতেন। তিনি শেখ বোরহান উদ্দিন কলেজের স্নাতকের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। ভোটার আইডি অনুযায়ী তাঁর বর্তমান ঠিকানা পুরান ঢাকার নিমতলী। তবে তিনি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসংলগ্ন কর্মচারীদের স্টাফ কোয়ার্টারে থাকতেন বলে স্বজনেরা জানিয়েছেন।

রাকিবুল ইসলামের বাবার নাম তরিকুল ইসলাম খোকন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী। তাঁদের গ্রামের বাড়ি ভোলা সদরের চৌমুহনী এলাকায়। নিহত রাকিবুল ইসলাম ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক ও ইনস্টাগ্রামে রাকিব আহম্মেদ নামে বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট তৈরি করতেন। ফেসবুক ও ইউটিউবে তাঁর প্রায় আট লাখ অনুসারী রয়েছে।

শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মিঠু ফকির জানান, শহীদ মিনারে রাকিব নামের এক শিক্ষার্থীকে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়। ঘটনার পরপরই সেখানে থাকা লোকজন এক যুবককে আটক করে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে হত্যার কারণ এখনো জানা যায়নি।

আরও পড়ুন:  এক দফা ঘোষণা শিক্ষার্থীদের

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *