জাতীয় সংসদে দেখে দেখে বক্তব্য দেওয়া অনুমোদিত নয় বলে জানিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি সংসদ সদস্যদের না দেখে বক্তব্য দেওয়ার অভ্যাস করার অনুরোধ করেন। রবিবার (১৫ মার্চ) সকাল ১১টার পর জাতীয় সংসদে জামায়াতের সংসদ সদস্য মাসুদ বিন সাঈদী ও ইসলামী আন্দোলনের সংসদ সদস্য অলি উল্লাহকে উদ্দেশ করে এ কথা বলেন।
এর আগে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এ দুজন সংসদ সদস্য কাগজ দেখে পুরো বক্তব্য দেন।
মাসুদ সাঈদী ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ আবু সাঈদ ও মুগ্ধসহ সব শহীদের স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, ‘তথাাকথিত ক্যাঙ্গারু ট্রাইব্যুনালে মিথ্যাচারের মাধ্যমে নির্মমভাবে হত্যার শিকার হওয়া আমার সম্মানিত পিতা আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ ইসলামী আন্দোলনের অসংখ্য নেতাকর্মীর রক্তস্নাত ত্যাগের বিনিময়ে আজ আমরা এই সংসদে কথা বলার সুযোগ পেয়েছি।’
শিক্ষা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর জোর দিয়ে মাসুদ সাঈদী বলেন, “দেশে ইনসাফ কায়েম করতে হলে দুর্নীতিতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করতে হবে। গত ১৫ বছরে কেবল সড়ক ও জনপথ বিভাগেই ৫২ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত লুটপাট হয়েছে বলে টিআইবির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।’
তিনি সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও শুল্কমুক্ত গাড়ি বর্জনের সংস্কৃতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার আহ্বান জানান।
বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ায় জনমনে বিভ্রান্ত তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন জামায়াতের এমপি মাসুদ বিন সাঈদী। তিনি বলেন, “বিএনপি জুলাই সনদে বিশ্বাসী কিনা, গণ-অভ্যুত্থানের গণ-অকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল কি না, জনগণের প্রত্যাশামতো সংবিধান সংস্কার করে নতুন এক বাংলাদেশ বিনির্মাণ করবে কি না, জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে। আমরা আশা করি, গণরায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেবেন।’
এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছিলেন, জুলাই আবেগ নয়, আবেগ দিয়ে রাষ্ট্র চলে না। এ বক্তব্যের সমালোচনা করে মাসুদ বিন সাঈদী বলেন, “জুলাই আবেগ নয়, কথাটি সত্য। কিন্তু জুলাই আবেগ, একই সঙ্গে বাস্তবতা। আবেগ বলে জুলাইকে খাটো করে রাখার সুযোগ নেই।”
তিনি বলেন, “৫০ ঘণ্টার আলোচনায় যে কথাটি এখানে বলা হয়েছে। সেখানে সব সংসদ সদস্যরা যাতে নির্বিঘ্নে বক্তব্য দিতে পারে সে জন্য ৫০ ঘণ্টার আলোচনার কথা বিরোধী দলীয় নেতা উত্থাপন করেছিলেন। কিন্তু এটিকেও খাটো করে দেখা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেছেন, জুলাই আইনও না, অধ্যাদেশও না। কিন্তু সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে সব অধ্যাদেশই আইন। এ মন্তব্যটি দায়িত্বশীল হয়নি। ভবিষ্যতে তিনি দায়িত্বশীল হবেন।”







