রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর দ্বিতীয় কর্মদিবসে জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর অস্থায়ী কার্যালয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন এবং দেশের বর্তমান সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
সকালে প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে পৌঁছালে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার। এরপরই শুরু হয় তাঁর পূর্বনির্ধারিত দাপ্তরিক ব্যস্ততা। সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকের আগে প্রধানমন্ত্রী দেশের শীর্ষ দুই গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানদের সঙ্গেও পৃথক আলোচনা সম্পন্ন করেন। সকাল সাড়ে ৯টায় জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) এবং ১০টায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) মহাপরিচালক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপর বেলা সাড়ে ১০টায় তিন বাহিনীর প্রধানগণের সঙ্গে মূল বৈঠকটি শুরু হয়, যেখানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. একেএম শামছুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকগুলোতে দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা বাহিনীর আধুনিকায়ন নিয়ে দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তাঁদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপরও জোর দেওয়া হয়।
সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত এসব উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী এখন সরাসরি জনকল্যাণমূলক এবং পরিবেশগত কর্মসূচিগুলোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন। বেলা সাড়ে ১১টায় তিনি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সভাপতিত্ব করছেন, যেখানে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে। এছাড়া বিকেলের অধিবেশনে তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় আগামী ৫ বছরে দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং নদী-খাল-জলাধার খননের এক উচ্চাভিলাষী জাতীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা প্রদান করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং তাঁর সরকারি বাসভবন ‘যমুনা’ সংস্কারাধীন থাকায় বর্তমানে তিনি সচিবালয় থেকেই তাঁর যাবতীয় দাপ্তরিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন। ক্ষমতার পরিবর্তনের এই সন্ধিক্ষণে প্রধানমন্ত্রীর এই নিবিড় তদারকি এবং নিরাপত্তা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ প্রশাসনিক গতিশীলতা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দ্বিতীয় কার্যদিবস ছিল রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা এবং দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের রূপরেখা প্রণয়নে অত্যন্ত কর্মমুখর ও তাৎপর্যপূর্ণ।







