এইচ-১বি ভিসার ১ লাখ ডলারের ফি ফের স্থগিত

উচ্চ দক্ষতার বিদেশি কর্মীদের জন্য নির্ধারিত এইচ-১বি ভিসায় ১ লাখ ডলারের ফি আরোপের সিদ্ধান্ত দ্বিতীয়বারের মতো স্থগিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত। 
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ফি আরোপের আগে প্রয়োজনীয় নিয়ম প্রণয়ন প্রক্রিয়া অনুসরণ না করার অভিযোগে এ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন আদালত। মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফি কার্যকরের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।
বিচারক গিলিয়াম বলেন, মার্কিন সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) ও স্টেট ডিপার্টমেন্ট ফি কার্যকরের আগে প্রয়োজনীয় নিয়মকানুন তৈরির প্রক্রিয়া অনুসরণ করেনি। ইউনিয়ন, নিয়োগকর্তা ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের একটি জোটের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এ আদেশ দেন। গিলিয়াম সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নিয়োগ করা বিচারক।
এর আগে জুনে বোস্টনের এক ফেডারেল বিচারক ২০টি অঙ্গরাজ্যের করা পৃথক মামলায় ১ লাখ ডলারের এই ফি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিলেন। জুলাইয়ে বোস্টনভিত্তিক একটি আপিল আদালতও সেই স্থগিতাদেশ বহাল রাখে।
এদিকে, গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) প্রায় ১ লাখ ৩ হাজার ডলারের একটি স্থায়ী ফি চালুর প্রস্তাব করেছে। এটি চূড়ান্ত হলে নতুন করে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। তবে প্রস্তাবিত এই ফি নিয়ে আইনি প্রশ্ন বর্তমান মামলাগুলোর চেয়ে কিছুটা ভিন্ন। বর্তমান মামলাগুলোতে মূলত প্রেসিডেন্ট এককভাবে এ ধরনের ফি নির্ধারণের ক্ষমতা রাখেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
১ লাখ ডলারের ফিটির মেয়াদ মূলত ২১ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি এর কার্যকারিতা আরও এক বছর বাড়িয়েছেন। এর পরই ফি নিয়ে নতুন করে আইনি লড়াই শুরু হয়।
মামলার বাদীদের পক্ষে আইনি লড়াই করা ‘ডেমোক্রেসি ফরোয়ার্ড’ আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। সংগঠনটির আইনজীবী স্টিভ ব্রেসলার বলেন, আদালতের সিদ্ধান্ত এমন একটি ব্যবস্থার বাস্তবায়ন ঠেকিয়েছে, যা হঠাৎ করেই ব্যাপক অনিশ্চয়তা তৈরি করেছিল।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ব্যবসায়িক লবিং সংগঠন ‘ইউএস চেম্বার অব কমার্স’ও এই ফি চ্যালেঞ্জ করে আলাদা মামলা করেছে। সংগঠনটি এমন এক রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে, যেখানে ট্রাম্পের ফি নির্ধারণের এখতিয়ার নেই—এমন দাবি খারিজ করা হয়েছিল।
এইচ-১বি ভিসার মাধ্যমে মার্কিন নিয়োগকর্তারা বিশেষায়িত পেশায় প্রশিক্ষিত বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ দিতে পারেন। বিশেষ করে প্রযুক্তি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো এই ভিসার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। কর্মসূচিটির আওতায় বছরে ৬৫ হাজার ভিসা দেওয়া হয়। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের জন্য আরও ২০ হাজার ভিসার সুযোগ রয়েছে। এসব ভিসা সাধারণত তিন থেকে ছয় বছরের জন্য অনুমোদিত হয়।
ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তে এইচ-১বি ভিসার খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এর আগে বিভিন্ন ধরনের ফি মিলিয়ে এই খরচ সাধারণত ২ হাজার থেকে ৫ হাজার ডলারের মধ্যে ছিল। নতুন ফি আরোপের সময় ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তি দেয়, কিছু বিদেশি নাগরিকের প্রবেশ সীমিত করা প্রয়োজন, কারণ তারা মার্কিন স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
ট্রাম্পের দাবি, কিছু ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এইচ-১বি কর্মসূচির অপব্যবহার করছে এবং কম খরচের বিদেশি শ্রমিক দিয়ে মার্কিন কর্মীদের প্রতিস্থাপন করছে।
এ ছাড়া এইচ-১বি আবেদনকারীদের আরও কঠোর যাচাই-বাছাই এবং উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন ও বেশি বেতনভোগী কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার লক্ষ্যে নতুন ভিসা প্রক্রিয়ার প্রস্তাব করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
অন্যদিকে, ডিএইচএসের প্রস্তাবিত প্রায় ১ লাখ ৩ হাজার ডলারের স্থায়ী ফি এখনো প্রস্তাবের পর্যায়ে রয়েছে। এটি চূড়ান্ত হলে এর বৈধতা নিয়েও নতুন করে আদালতে চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

two + ten =