এইচ-১বি ও এল-১ ভিসার মেয়াদ বাড়ানো আরও ব্যয়বহুল করছে ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বিদেশি দক্ষ কর্মীদের এইচ-১বি এবং এল-১ ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর প্রক্রিয়াটি আরও ব্যয়বহুল করার পরিকল্পনা করছে।

মার্কিন প্রশাসনের এই পদক্ষেপে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন সেদেশে কর্মরত হাজার হাজার ভারতীয় পেশাদার এবং তাদের ওপর নির্ভরশীল প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো।

মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) রেগুলেটরি এজেন্ডা অনুযায়ী, ‘৯-১১ রেসপন্স অ্যান্ড বায়োমেট্রিক এন্ট্রি-এক্সিট ফি’ সম্পর্কিত নিয়ম সংশোধন করে ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদনের ক্ষেত্রেও এই ফি প্রযোজ্য করার প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি বছরের জুলাই মাসের মধ্যে এর চূড়ান্ত আদেশ জারি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিদ্যমান মার্কিন নিয়ম অনুসারে, ৫০ জনের বেশি কর্মী রয়েছে এবং যাদের মোট কর্মীর ৫০ শতাংশের বেশি এইচ-১বি বা এল-১ ভিসা ধারণ করেন—এমন নিয়োগকর্তাদের নতুন কর্মী নিয়োগ বা কর্মী পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে হয়। সে ক্ষেত্রে এইচ-১বি আবেদনের জন্য অতিরিক্ত ৪ হাজার ডলার এবং এল-১ আবেদনের জন্য ৪ হাজার ৫০০ ডলার দিতে হয়।

আরও পড়ুন:  নায়ক মান্না নেই ১৮ বছর

ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি জানিয়েছে, তারা নিয়ম সংস্কার করে স্পষ্ট করতে চায় যে, এই ‘৯-১১ রেসপন্স ফি’ এইচ-১বি ও এল-১ ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর সমস্ত আবেদনের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য হবে।

এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন নতুন এইচ-ওয়ানবি ভিসার ক্ষেত্রে ১ লাখ ডলার ফি নির্ধারণের একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু নিম্ন আদালতের সেই রুলিং স্থগিত করতে রাজি হয়নি মার্কিন ফেডারেল আপিল আদালত। আইনি সেই ধাক্কার পরই ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর খরচ বৃদ্ধির এই নতুন প্রস্তাবটি সামনে এল।

সাধারণত তিন বছরের প্রাথমিক মেয়াদের পর এইচ-১বি ভিসা ধারণকারী কর্মীদের মেয়াদ বাড়ানোর প্রয়োজন হয়। ফলে নতুন নিয়ম চালু হলে বিদেশি মেধার ওপর নির্ভরশীল প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিবাসন সংক্রান্ত পরিচালনা ব্যয় অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে।

একই সঙ্গে গুগল ও মেটার মতো বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো, যারা দক্ষ কর্মী, নির্বাহী ও ম্যানেজারদের যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তরের জন্য এল-১ ভিসা ব্যবহার করে, তারাও অতিরিক্ত আর্থিক চাপে পড়বে।

আরও পড়ুন:  এস আলম-সালমান এফ রহমানের অনিয়ম অনুসন্ধানে কমিটি গঠন

প্রতি বছর অনুমোদিত এইচ-১বি ভিসা সম্প্রসারণ বা মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদনের সিংহভাগই যায় ভারতীয় নাগরিকদের দখলে। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে ভারতীয় পেশাজীবীদের ওপর।

ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)-এর ২০২৫ অর্থবছরের তথ্য অনুযায়ী, ওই বছর মোট ৪ লাখ ৬ হাজার ৬৮৫টি এইচ-১বি আবেদন অনুমোদিত হয়েছে।

এর মধ্যে প্রায় ৭১ শতাংশ (২ লাখ ৯১ হাজার ৫৪২টি আবেদন) ছিল পুরোনো কর্মীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানো বা কাজ অব্যাহত রাখার সংক্রান্ত আবেদন। আর এসব নবায়নকৃত আবেদনের মধ্যে রেকর্ড ৭৭ দশমিক ৬ শতাংশ অর্থাৎ ২ লাখ ২৬ হাজার ৩৫৯টি অনুমোদন পেয়েছেন ভারতীয় নাগরিকেরা। এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা চীনের নাগরিকেরা পেয়েছেন ৩১ হাজার ৫৮১টি অনুমোদন।

আরও পড়ুন:  মোদির ব্যক্তিগত চিঠি তারেক রহমানের কাছে পৌঁছে দিয়েছি : জয়শঙ্কর

যেসব প্রযুক্তি ও আইটি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান এইচ-১বি ভিসাধারী কর্মীদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, নতুন ফি কাঠামোর কারণে তাদের খরচ ব্যাপকভাবে বেড়ে যাবে।

ন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর আমেরিকান পলিসি (এনএফএপি)-র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ অর্থবছরে বিদ্যমান কর্মীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি আবেদন অনুমোদন পেয়েছে ই-কমার্স জায়ান্ট আমাজন (১৪,৫৩২টি)।

তালিকায় এর পরেই রয়েছে ভারতের টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস বা টিসিএস (৫,২৯৩টি), মাইক্রোসফট (৪,৮৬৩টি), মেটা প্ল্যাটফর্মস (৪,৭৪০টি), অ্যাপল (৪,৬১০টি) এবং গুগল (৪,৫০৯টি)।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

17 + fifteen =