ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন অভিবাসন নীতি বাতিল করল মার্কিন আদালত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত দেশের নাগরিকদের জন্য গ্রিনকার্ড ও ওয়ার্ক পারমিট পাওয়া কঠিন করে দেওয়া নীতিকে বৈষম্যমূলক ও বেআইনি বলে রায় দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত।

বোস্টনের যুক্তরাষ্ট্র জেলা বিচারক জুলিয়া কোবিক গত বৃহস্পতিবার এ রায় দেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নীতির বিরুদ্ধে একটি প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

এই রায় এসেছে ২০টি দেশের প্রায় ২০০ জন অভিবাসন আবেদনকারীর করা একটি মামলার প্রেক্ষিতে। আবেদনকারীদের মধ্যে ইরান, হাইতি, ভেনিজুয়েলা ও সিরিয়ার নাগরিকরা রয়েছেন।

তারা অভিযোগ করেন, ইউএস সিটিজেনশীপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস (USCIS) ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে তাদের আশ্রয়, গ্রিন কার্ড ও কাজের অনুমতির আবেদন প্রক্রিয়াকরণ বন্ধ করে দেয়।

বিচারক বলেন, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের আবেদন আটকে রাখা এবং তাদের জাতীয়তাকে নেতিবাচক ফ্যাক্টর হিসেবে বিবেচনা করা আইনবিরোধী।

আরও পড়ুন:  ইরানে হামলা করায় যুক্তরাষ্ট্রের কাউন্টার টেররিজম প্রধানের পদত্যাগ

বিচারক কোবিক বলেন, এই ধরনের নীতি যুক্তরাষ্ট্রের ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট’ এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক, যেখানে জাতীয়তার ভিত্তিতে বৈষম্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে স্থগিত রাখা কংগ্রেসের নির্দেশনারও লঙ্ঘন, কারণ সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে এসব আবেদন নিয়ে সিদ্ধান্ত দিতে বাধ্য করা হয়েছে।

রায়ের অংশ হিসেবে আদালত অন্তত ২২ জন আবেদনকারীর ক্ষেত্রে এই নীতির প্রয়োগ স্থগিত করেছে এবং বাকিদের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য হবে কিনা, সে বিষয়ে পক্ষগুলোকে আলোচনার নির্দেশ দিয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবীরা এই রায়কে গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, এটি প্রমাণ করে যে কংগ্রেস অনুমোদন না দিলে প্রশাসন একতরফাভাবে এমন বৈষম্যমূলক নীতি কার্যকর করতে পারে না।

বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে বিচার বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের নীতির ওপর আইনি চাপ আরও বাড়তে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *