দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য জার্মানিতে রয়েছে বিশাল কর্মসংস্থানের সুযোগ। বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার পদ খালি রয়েছে, যা দেশটিতে ক্যারিয়ার গড়া এবং স্থায়ীভাবে বসবাসের পরিকল্পনা করা ব্যক্তিদের জন্য এক সুবর্ণ সুযোগ। সম্প্রতি দুবাইয়ের দুসিত থানি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘গালফ নিউজ লেভেলআপ’ সম্মেলনের এক ফায়ারসাইড চ্যাটে ওয়াই-অ্যাক্সিসের ডিরেক্টর ক্লিন্ট খান এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) প্রায় ৩০ লাখ শূন্য পদ রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজারই রয়েছে জার্মানিতে, যা পুরো ইউরোপীয় ইউনিয়নের চাহিদার প্রায় ২৫ শতাংশ। এটিই প্রমাণ করে জার্মানিতে দক্ষ পেশাজীবীদের চাহিদা কতটা ব্যাপক।’
দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য জার্মানিতে প্রবেশের অন্যতম একটি মাধ্যম হলো ‘অপরচুনিটি কার্ড’। এটি মূলত চাকরি খোঁজার জন্য একটি রেসিডেন্স পারমিট, যার মাধ্যমে ইইউ-বহির্ভূত দেশের নাগরিকরা আগে থেকে কোনও চাকরির চুক্তি না থাকা সত্ত্বেও যোগ্য কোনও কাজ খোঁজার জন্য ১২ মাস পর্যন্ত জার্মানিতে অবস্থান করতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, ‘অপরচুনিটি কার্ড আপনাকে জার্মানিতে গিয়ে চাকরি খোঁজার সুযোগ দিচ্ছে। শুরুতে আপনি খণ্ডকালীন বা পার্ট-টাইম কাজ করতে পারেন। পরবর্তীতে কোনও পূর্ণকালীন চাকরি পেয়ে গেলে এবং নিয়োগকর্তা স্পন্সর করতে রাজি হলে, আপনি তা নির্দিষ্ট ওয়ার্ক পারমিটে পরিবর্তন করে নিতে পারবেন।’
আবেদন করতে পারবেন যারা
আবেদনকারীরা মূলত পয়েন্টভিত্তিক পদ্ধতির মাধ্যমে অথবা জার্মানিতে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বিদেশি শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন দক্ষ কর্মী হিসেবে এই কার্ডের জন্য যোগ্য বিবেচিত হতে পারেন। পয়েন্ট পদ্ধতির ক্ষেত্রে আবেদনকারীর একটি স্বীকৃত একাডেমিক বা ভোকেশনাল ডিগ্রি, নিজের খরচ চালানোর মতো পর্যাপ্ত অর্থ এবং নির্ধারিত পয়েন্ট থাকা আবশ্যক। পেশাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা, বয়স ও ভাষা দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে এই পয়েন্ট দেয়া হয়।
ক্লিন্ট খান উল্লেখ করেন, ‘যেসব পেশাজীবী উপযুক্ত চাকরি নিশ্চিত করতে পারেন, তাদের জন্য জার্মানিতে স্থায়ী হওয়ার আরেকটি মাধ্যম হলো ইইউ ব্লু কার্ড। নির্ধারিত বেতনের শর্ত পূরণকারী যোগ্য চাকরির অফার থাকা উচ্চশিক্ষিত কর্মীদের লক্ষ্য করেই এটি প্রণয়ন করা হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, ‘ব্লু কার্ড পারমানেন্ট রেসিডেন্সির পথ সুগম করে। বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী, এর ধারকরা নির্দিষ্ট শর্তপূরণ সাপেক্ষে ২৭ মাস পর স্থায়ীভাবে বসবাসের পারমিট পেতে পারেন। আর বি-১ (B1) লেভেলের জার্মান ভাষা দক্ষতা থাকলে মাত্র ২১ মাসের মধ্যেই এই সুযোগ পাওয়া সম্ভব।’







