মালয়েশিয়ায় দক্ষ জনশক্তি পাঠানো নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশটিতে সফর করছেন বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে সময় সংবাদকে তিনি এ তথ্য জানান।
প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের পর বৈদেশিক কর্মসংস্থানের দ্বিতীয় বৃহৎ গন্তব্য হলো মালয়েশিয়া।দেশটিতে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি বাড়ানো, কর্মীদের অধিকার-সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক বোঝাপড়া আরও জোরদার করাই প্রধানমন্ত্রীর সফরের অন্যতম লক্ষ্য।
দেশটিতে অবৈধ বাংলাদেশিদের বৈধ করার বিষয়ে এ সফরে অনুরোধ থাকতে পারে। পাশাপাশি শ্রমিক পাঠাতে দুর্নীতি ঠেকাতে মালয়েশিয়ার সরকারের সঙ্গে আলোচনা হবে বলেও জানান প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে চলা সংকট, আঞ্চলিক অস্থিরতা, নতুন ভিসা বিধিনিষেধ এবং শ্রমবাজারে পরিবর্তনের প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থানের ওপর। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে শ্রমিক নিয়োগের গতি আগের তুলনায় কমেছে। এমন বাস্তবতায় বিকল্প ও স্থিতিশীল শ্রমবাজার ঢাকার জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক কর্মসংস্থানের গন্তব্য মালয়েশিয়া। দেশটিতে বর্তমানে কয়েক লাখ বাংলাদেশি কর্মী বিভিন্ন খাতে কাজ করছেন। প্রতিবছর তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এমন সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফরের গন্তব্য হিসেবে মালয়েশিয়াকে বেছে নেওয়াকে কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে সরকার।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের তাৎপর্য শুধু শ্রমবাজারেই সীমাবদ্ধ নয়। ভারত ও চীনের মতো আঞ্চলিক শক্তিধর দেশগুলোর প্রভাব-প্রতিযোগিতার মধ্যে মালয়েশিয়াকে প্রথম গন্তব্য হিসেবে বেছে নেওয়া বিএনপি সরকারের ভারসাম্যপূর্ণ ও বহুমুখী কূটনীতিরও একটি বার্তা।
তাই অর্থনীতি, শ্রমবাজার ও আঞ্চলিক কূটনীতির সমীকরণে প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফর শুধু একটি দ্বিপাক্ষিক সফর নয়, বরং বাংলাদেশের নতুন কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারেরও প্রতিফলন।







