হরমুজে যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজে ইরানের হামলা

হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা সদস্যদের বহনকারী একটি জাহাজে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা আইআরজিসি। হামলায় কয়েকজন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন।

বুধবার এ ঘটনা ঘটেছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দফতর পেন্টাগনের বরাত দিয়ে ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে চলার সময় হঠাৎ চারটি ইরানি ড্রোন এবং একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র জাহাজটিতে আঘাত হানে। এতে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায় এবং কয়েকজন মার্কিন সেনা আহত হন।

কতজন মার্কিন সেনা সেই জাহাজে ছিলেন এবং তাদের মধ্যে কতজন আহত হয়েছেন— সেই সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দেয়নি পেন্টাগন সূত্র। তবে জানা গেছে, আহত সেনাদের আঘাত গুরুতর নয় এবং বর্তমানে তারা উপসাগরীয় অঞ্চলের ছয় দেশের ‘কোনো একটি দেশে’ চিকিৎসা নিচ্ছেন

আরও পড়ুন:  পদ্মা সেতুতে টোল থেকে ৪৩ মাসে ৩ হাজার কোটি টাকা আয়

জাহাজটি কোথা থেকে রওনা হয়ে কোন গন্তব্যে যাচ্ছিল, সেই তথ্যও মেলেনি। তবে পেন্টাগন বলেছে হামলার শিকার জাহাজটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বা সরকারি কোনো সংস্থার জাহাজ ছিল না। এটি ছিল মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ একটি বাণিজ্যিক জাহাজ।

এ ব্যাপারে আরও বিস্তারিত জানতে মার্কিন নৌবাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল ফক্স নিউজ, নৌবাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের (সেন্টকম) সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেয়। সেই অনুযায়ী সেন্টকমের সঙ্গে যোগাযোগও করা হয়, কিন্তু সেন্টকমের কোনো মুখপাত্র এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ওয়াশিংটন কিংবা তেহরানও এখন পর্যন্ত এ ইস্যুতে সরকারিভাবে কোনো বক্তব্য দেয়নি।

উল্লেখ্য, পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্তকারী হরমুজ প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য জলপথগুলোর মধ্যে একটি। পৃথিবীর এক পঞ্চমাংশ পণ্য ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সমুদ্রপথ দিয়ে প্রবাহিত হয়।

আরও পড়ুন:  সকালে শিল্পকলায় রুবেলের প্রতি শ্রদ্ধা, বিকালে দাফন

ভৌগলিকভাবে এই প্রণালী ইরানের ভূখণ্ডে অবস্থিত এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের আগ পর্যন্ত এই প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে কোনো সমস্যা ছিল না। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। কারণ, ইরান হরমুজ প্রণালী ব্যবহারে ইচ্ছুক বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজগুলো থেকে টোল আদায়ের ঘোষণা দিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্ব ইরানের এ সিদ্ধান্তের ঘোর বিরোধী।

এদিকে ইরান হরমুজ প্রণালীতে অবরোধ ঘোষণা করার পর দেশটির বন্দরগুলোতে পাল্টা অবরোধ জারি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তারপর থেকে কোনো দেশি-বিদেশি জাহাজ ইরানের বন্দরে প্রবেশ করতে বা বন্দর থেকে বেরিয়ে যেতে পারছে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

11 + 8 =