বাংলাদেশ সরকার যখন ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফেরত আনার বিষয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তখন ঢাকার বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—নয়াদিল্লিতে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে শেখ হাসিনা উচ্চপর্যায়ের বৈঠক বাতিল করা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য উইকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—আজ শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিল্লিতে ওই বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। বৈঠকে যোগ দিতে আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা দিল্লিতে পৌঁছেও গিয়েছিলেন। তবে শেষ মুহূর্তে বৈঠকটি বাতিল করা হয়।
এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ। তবে ঢাকার একটি সংবাদপত্রকে আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের এক দিন আগে বৈঠক বাতিলের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। তবে কেন বৈঠকটি বাতিল করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কোনো কারণ জানাননি।
নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনা যেখানে আশ্রয় নিয়েছেন, সেই বাসভবনে বৈঠকটি হওয়ার কথা ছিল। এতে দলের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কৌশল নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। ধারণা করা হচ্ছিল, ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার বিষয়টিও বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে থাকতে পারত।
এদিকে, দিল্লির সাউথ এশিয়ার ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার ভারচুয়াল অংশগ্রহণের পর বাংলাদেশ এ নিয়ে প্রতিবাদ জানানোর কয়েক দিনের মাথায় এই বৈঠক বাতিলের খবর সামনে এল। ওই অনুষ্ঠানের সঙ্গে পরে আওয়ামী লীগ নিজেদের দূরত্ব তৈরি করে জানায়, অনুষ্ঠানটি দল আয়োজন বা স্পনসর করেনি। নয়াদিল্লিও জানায়—অনুষ্ঠানটি একটি বেসরকারি সংগঠন আয়োজন করেছিল এবং এতে ভারত সরকারের কোনো ভূমিকা ছিল না।
সর্বশেষ আওয়ামী লীগের এই বৈঠক বাতিলের খবর এমন এক সময় সামনে এল—যখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীকে বলেছেন, শেখ হাসিনার উচিত ঢাকায় কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা না করা।
মাহদী আমিন ত্রিবেদীকে বলেন, ভারতের মাটিতে থাকা এসব ব্যক্তির ওপর ভারতের ঘনিষ্ঠ নজর রাখা উচিত, যাতে তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার কোনো চেষ্টা করতে না পারেন।
এদিকে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশ আবারও দ্বিপক্ষীয় আলোচনা শুরু করেছে। ভারতীয় সংভাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নভেম্বরে উপযুক্ত একটি সময়ে তার দিল্লি সফরের আয়োজন করতে দুই দেশ কাজ করছে।
দ্য হিন্দু আরও জানিয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদি আমিন।







