দেশে পৌনে চার কোটি মানুষ এখনো নিরক্ষর

২০৩০ সালের মধ্যে দেশকে নিরক্ষরমুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। তবে তা অর্জনের পথে বড় বাধা এখনো নিরক্ষর বিপুলসংখ্যক মানুষ। সাত বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী প্রায় পৌনে ৪ কোটি মানুষ এখনো পড়তে-লিখতে জানেন না। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২৫-এর প্রতিবেদনে এ তথ্য রয়েছে।

ওই অর্থনৈতিক সমীক্ষা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট জনসংখ্যা ১৭ কোটি ২২ লাখ ৮০ হাজার। এই জনগোষ্ঠীর মধ্যে সাক্ষরতার হার ৭৭ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। এর অর্থ জনসংখ্যার ২২ দশমিক ৯১ শতাংশ মানুষ এখনো নিরক্ষর। তারা মূলত বিদ্যালয়বহির্ভূত বা ঝরে পড়া শিশু এবং শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষ। এমন বাস্তবতায় আগামীকাল মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হবে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য–‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২৫-এর তথ্যের ভিত্তিতে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোও দেশে নিরক্ষর মানুষের সংখ্যা প্রায় পৌনে ৪ কোটি বলে জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এই বিপুল মানুষকে সাক্ষরতার আওতায় আনার জন্য নির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকলেও মাঠপর্যায়ে তার প্রতিফলন নেই।

আরও পড়ুন:  ফেসবুক সার্ভার ডাউন

সরকারি ভাষ্য অনুযায়ী, সাক্ষরতা বলতে শুধু অক্ষরজ্ঞান বা স্বাক্ষর করতে পারা নয়। সাক্ষরতা বলতে মাতৃভাষায় পড়তে পারা, অনুধাবন করা, মৌখিকভাবে এবং লিখিতভাবে বিভিন্ন বিষয় ব্যাখ্যা করতে পারা, যোগাযোগ স্থাপন করতে পারা এবং গণনা করতে পারাকে বোঝায়।

শিক্ষাবিদেরা বলছেন, ২০৩০ সাল হতে সময় রয়েছে কয়েক বছর। এই সময়ের মধ্যে প্রায় পৌনে ৪ কোটি মানুষকে সাক্ষরতার আওতায় আনা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। নিরক্ষরতা দূর করতে হলে প্রথমে নিরক্ষর মানুষের হালনাগাদ তালিকা তৈরি করা জরুরি। এরপর ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক পরিকল্পনা করে তাঁদের সাক্ষরতার আওতায় আনতে হবে।

নিরক্ষরতা দূর করতে হলে নিরক্ষর মানুষের হালনাগাদ তালিকা তৈরি করতে হবে। এরপর এলাকাভেদে বড় ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে।মনজুর আহমেদইমেরিটাস অধ্যাপক, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়

জানতে চাইলে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমেদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, সাক্ষরতার ক্ষেত্রে দেশের অগ্রগতি আছে।

আরও পড়ুন:  ‘সেনাবাহিনী পদক’ পেলেন সেনাপ্রধান

তবে এখনো পৌনে ৪ কোটি মানুষ নিরক্ষর, এটা বড় চ্যালেঞ্জ। নিরক্ষরতা দূর করতে হলে নিরক্ষর মানুষের হালনাগাদ তালিকা তৈরি করতে হবে। এরপর এলাকাভেদে বড় ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে।

জাতিসংঘের ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে ২০৩০ সালের মধ্যে নিরক্ষরমুক্ত দেশ গড়তে চায় বাংলাদেশ। অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায়ও সাক্ষরতা অর্জনের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই লক্ষ্য অর্জনে বিপুলসংখ্যক নিরক্ষর মানুষকে স্বাক্ষরজ্ঞান দিতে দৃশ্যমান তেমন কোনো কার্যক্রম নেই। গত দুই-তিন বছরে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো তেমন কোনো কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেনি। এর প্রভাব পড়েছে সাক্ষরতার হারে।

সাক্ষরতা কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর পরিচালক (পরিকল্পনা, মনিটরিং ও মূল্যায়ন) ড. ফারুক আহাম্মদ বলেন, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার পরিধি আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে একাধিক কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। তাঁরা আশা করছেন, ২০৩১ সাল নাগাদ দেশের সাক্ষরতার হার ৮৬-৯০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন:  বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে গৃহ হস্তান্তর করলেন প্রধান উপদেষ্টা

নিরক্ষরতা দূরীকরণে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ আজকের পত্রিকাকে বলেন, সাক্ষরতার হার বাড়াতে বাংলাদেশ গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে একই সঙ্গে এটিও সত্য, এখনো উল্লেখযোগ্য জনগোষ্ঠী কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা ও দক্ষতার সুযোগের বাইরে আছে। তাদের কাছে শিক্ষার সুযোগ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

20 + 7 =