চট্টগ্রামে বন্য ১৩ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, ঝুঁকিতে ১৭ হাজার গর্ভবতী

বন্যা ও ভূমিধসে চট্টগ্রামের সাত জেলায় অন্তত ১৩ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে এক লাখ ১৭ হাজার কিশোরী ও ১৭ হাজার ৪৯০ জন গর্ভবতী নারী রয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ)  প্রকাশিত পরিস্থিতি প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্যায় কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ৪৩ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে নতুন করে বাস্তুচ্যুত হয়েছে ৯ হাজার ৭০৭ জন। এ ছাড়া ১৫ হাজার ৬০০ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও প্রায় ২০০ হিজড়া জনগোষ্ঠীর মানুষ চরম সংকটে রয়েছে।

ইউএনএফপিএর প্রতিবেদনে বান্দরবানকে সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির জেলা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার গর্ভবতী নারী বন্যাদুর্গত এলাকায় আটকা পড়েছেন। পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুন:  এনসিপি থেকে পদত্যাগ করে জারা বললেন, চাঁদার টাকা ফেরত দেব

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুটি নারীবান্ধব কেন্দ্র ও চারটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র প্লাবিত হয়েছে।

অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত ভিড়, আলোর অভাব, গোপনীয়তা ও পৃথক স্যানিটেশন সুবিধার ঘাটতির কারণে নারী ও কিশোরীদের নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে বলে জানিয়েছে ইউএনএফপিএ। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রমের মতো নেতিবাচক প্রবণতাও বাড়ছে।ইউএনএফপিএ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত এক হাজার ১৮ জন নারীকে স্বাস্থ্যসেবা, চার হাজার ৫০০ ডিগনিটি কিট এবং এক হাজার ৯৫১টি মাসিক স্বাস্থ্যসামগ্রী দেওয়া হয়েছে। তবে জরুরি সেবা চালু রাখতে প্রয়োজন ৯ লাখ ৬৬ হাজার ৯৩০ ডলারের মধ্যে সংগ্রহ হয়েছে মাত্র এক লাখ ৩০ হাজার ৩৩০ ডলার। অর্থাৎ এখনো ঘাটতি রয়েছে আট লাখ ৩৬ হাজার ৬০০ ডলার।

প্রতিবেদনে জরুরি প্রসূতি সেবা চালু রাখা, যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার ও নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র নিশ্চিত করার পাশাপাশি ৮৭ শতাংশ তহবিল ঘাটতি দ্রুত পূরণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:  সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া যাত্রাকালে ২৭৩ জন আটক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ten − 5 =