ঠাকুরগাঁওবাসীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন অবশেষে সত্যি হওয়ার পথে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা ২০ মিনিটে সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে প্রস্তাবিত ‘ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এই মাইলফলক স্থাপনের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের অবহেলিত এই জনপদে উচ্চশিক্ষার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো। বিশ্ববিদ্যালয়টি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে ঠাকুরগাঁও ও এর পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার দুয়ার খুলে যাবে বলে মনে করছেন স্থানীয় শিক্ষাবিদ ও সচেতন নাগরিকরা।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নিজ জেলায় প্রথম আনুষ্ঠানিক সরকারি সফর। দুই দিনের এই সফরের দ্বিতীয় দিনটি তিনি উৎসর্গ করেন এই মেগা প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনে। এর আগে গতকাল রবিবার দুপুরে হেলিকপ্টারযোগে ঠাকুরগাঁও শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে অবতরণ করেন তিনি। সেখান থেকে সার্কিট হাউসে গিয়ে রাষ্ট্রীয় ‘গার্ড অব অনার’ গ্রহণ করেন। এরপর মা-বাবার কবর জিয়ারত ও স্থানীয় একটি নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন রাষ্ট্রপতি।
নাগরিক সংবর্ধনায় রাষ্ট্রপতি ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নের বিষয়ে নিজের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, জেলায় মেডিকেল কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজের পাশাপাশি বন্ধ থাকা ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর পুনরায় সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি তাঁর বক্তব্যে তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থানের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলেন, কেবল চাকরির পেছনে না ছুটে তরুণদের উচিত নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধি করে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠা। পাশাপাশি তিনি সমাজ থেকে মাদক নির্মূল এবং গণতান্ত্রিক ধারা বজায় রাখতে রাজনৈতিক দলগুলোকে হানাহানি পরিহার করে সমঝোতার পথে চলার আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতির এই সফরকে কেন্দ্র করে পুরো ঠাকুরগাঁও জেলা উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে। শহরজুড়ে চলছে ব্যাপক সাজসজ্জা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে এই বিশ্ববিদ্যালয়টিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।







