নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি ঠেকাতে সরকারের ১২ নির্দেশনা

সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় ভুয়া বা প্রক্সি পরীক্ষার্থী ঠেকাতে বায়োমেট্রিক শনাক্তকরণসহ ১২ দফা নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আজ মঙ্গলবার সব সচিব, বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকদের এই নির্দেশনা পাঠিয়েছে।

সেখানে বলা হয়েছে, সম্প্রতি মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং অধীন দপ্তর ও সংস্থাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ কার্যক্রমে কিছু পরীক্ষার্থী নিজে অংশগ্রহণ না করে নানা ধরনের অসদুপায় অবলম্বন করে চাকরি পাওয়ার চেষ্টা করছে। এর মধ্যে ভুয়া বা প্রক্সি পরীক্ষার্থীর মাধ্যমে লিখিত, ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ব্যবহার রয়েছে।

সরকার বলছে, অসদুপায় অবলম্বন করে চাকরি পাওয়ার চেষ্টার কারণে প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীর পরিবর্তে অযোগ্য ও ভুয়া প্রার্থীর চাকরি পাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে এবং সুষ্ঠু নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

ভুয়া বা প্রক্সি পরীক্ষার্থী প্রতিরোধে ১২টি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এসব নির্দেশনা মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে তাদের অধীন দপ্তর, সংস্থা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে বিষয়টি অবহিত করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে পরীক্ষা চলাকালে প্রয়োজনীয় ভিজিল্যান্স টিমের মাধ্যমে বিষয়টি তদারকের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:  ১৬ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ ও এক লাখ কর্মসংস্থানের হাতছানি

১২ নির্দেশনা

আবেদনপত্রে আবেদন দাখিলের এক মাসের মধ্যে তোলা রঙিন ছবি ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা; লিখিত পরীক্ষার আগে প্রার্থীদের আবেদনপত্র ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করা; পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের সময় কোনো পরীক্ষার্থীকে ক্ষুদ্রাকৃতির ব্লুটুথ ডিভাইস, মোবাইল ফোন, ক্যালকুলেটর, ডিজিটাল হাতঘড়িসহ কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস, ব্যাগ বা বই-পুস্তক নিয়ে প্রবেশ করতে না দেওয়া, প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় কেন্দ্রের গেটে মেটাল ডিটেকটর দিয়ে পরীক্ষার্থীদের তল্লাশি করা।

পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর কোনো পরীক্ষার্থীকে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে না দেওয়া; পরীক্ষা কক্ষে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মোবাইল ফোন বা অন্য কোনো ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করতে না দেওয়া; প্রবেশপত্র ও হাজিরা শিটে সংযুক্ত ছবির সঙ্গে পরীক্ষার্থীর চেহারা এবং রোল নম্বর মিলিয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর কক্ষ পরিদর্শকদের উত্তরপত্রে স্বাক্ষর করা। এ বিষয়ে কোনো অসংগতি পেলে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানানো।

আরও পড়ুন:  ২২ ডিসিকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাল সরকার

মৌখিক পরীক্ষার সময় প্রবেশপত্র এবং লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্রের সঙ্গে প্রার্থীর হাতের লেখার সাদৃশ্য পরীক্ষা করা, প্রয়োজনে মৌখিক পরীক্ষা বোর্ডে পুনরায় সংক্ষিপ্ত আকারে লেখা নিয়ে তা উত্তরপত্রের লেখার সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে। সম্ভব হলে লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী সব পরীক্ষার্থীর ছবি তুলে রাখতে হবে। পরবর্তী সময়ে ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের সঙ্গে ওই ছবি মিলিয়ে দেখতে হবে।

ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী সব পরীক্ষার্থীর ছবি বাধ্যতামূলকভাবে তুলে রেখে পরবর্তী সময়ে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থী চাকরিতে যোগদানের সময় ওই ছবি পরীক্ষা করে যোগদানপত্র গ্রহণ করা; পরীক্ষার আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তা নেওয়া; পরীক্ষাকেন্দ্রে ভ্রাম্যমাণ আদালত বা সামারি ট্রায়াল পরিচালনার জন্য পূর্বপ্রস্তুতি নিয়ে ভুয়া বা প্রক্সি পরীক্ষার্থী শনাক্ত হলে তাদের বিরুদ্ধে বাধ্যতামূলকভাবে মামলা করা এবং ভুয়া বা প্রক্সি পরীক্ষার্থী প্রতিরোধে বায়োমেট্রিক শনাক্তকরণ ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:  বিসিএসসহ সব সরকারি চাকরির আবেদন ফি ২০০ টাকা, প্রজ্ঞাপন জারি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

nineteen − thirteen =