চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে সাফল্যের দিক থেকে সকল বোর্ডের শীর্ষে অবস্থান করছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। এই বোর্ডে পাসের হার ৭১.৬৩ শতাংশ। অন্যদিকে, সবচেয়ে কম পাসের হার রেকর্ড করা হয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে, যেখানে পাসের হার ৫৫.৪৯ শতাংশ। আজ সোমবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পরীক্ষার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন।
ফলাফলের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, অন্যান্য সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে রাজশাহী বোর্ডে পাসের হার ৬৩.৬৭ শতাংশ, কুমিল্লায় ৬৫.৪২ শতাংশ এবং যশোরে ৬৬.২৭ শতাংশ। উপকূলীয় ও অন্যান্য অঞ্চলের মধ্যে চট্টগ্রামে ৫৯.৪৮ শতাংশ, বরিশালে ৬০.৩৫ শতাংশ এবং সিলেটে ৫৮.৩৩ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। এছাড়া দিনাজপুর বোর্ডে ৫৮.০৫ শতাংশ, ময়মনসিংহে ৫৭.৩৯ শতাংশ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ৫৮.২০ শতাংশ পাসের হার অর্জিত হয়েছে।
এ বছর সারাদেশে গড় পাসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে দাঁড়িয়েছে ৬২.২৫ শতাংশে। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে এই হার ছিল ৬৮.৪৫ শতাংশ। পাসের হারের পাশাপাশি সর্বোচ্চ জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যাও হ্রাস পেয়েছে। এ বছর মোট ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে, যেখানে গত বছর এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন। সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৬৪.০৫ শতাংশ, যা গত বছরের তুলনায় ৩.৯৯ শতাংশ কম।
শিক্ষার্থীবহুল এই পরীক্ষায় এ বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন পরীক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছিল। এর মধ্যে ছাত্রের সংখ্যা ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন এবং ছাত্রীর সংখ্যা ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন। মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে সাধারণ বোর্ডের অধীনে ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন, মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন এবং কারিগরি বোর্ডের অধীনে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। সারাদেশের ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে ৩০ হাজার ৬৬৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।







