গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে পালিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েক সপ্তাহ ধরে নতুন করে আলোচনা-জল্পনা চলছে। এরই মধ্যে ভারতের লোকসভায় শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ উঠে এসেছে।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে ঢাকার অনুরোধ নয়াদিল্লির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ খতিয়ে দেখছে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটিকে এ কথা জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সংসদীয় কমিটি তাদের প্রতিবেদন লোকসভায় উপস্থাপন করে। প্রতিবেদনটির শিরোনাম ছিল ‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’।
কমিটির চেয়ারপারসন কংগ্রেসের সংসদ সদস্য শশী থারুর। তাদের প্রতিবেদনে পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির নবম প্রতিবেদনের সুপারিশ ও পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরা হয়।
লোকসভায় উপস্থাপন করা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর তাঁকে ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ যে অনুরোধ করেছে, সে বিষয়টি জানার পর বিষয়টি পর্যালোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে সরকারের কাছে জানতে চেয়েছিল পার্লামেন্টারি কমিটি। এ পরিপ্রেক্ষিতে জানানো হচ্ছে, বিদ্যমান আইন ও প্রচলিত প্রক্রিয়া অনুসারে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে বাংলাদেশের অনুরোধ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ খতিয়ে দেখছে।
প্রসঙ্গত, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে পলাতক অপরাধী বিনিময়ের আইনি ভিত্তি হলো বাংলাদেশের ‘বন্দি প্রত্যর্পণ আইন, ১৯৭৪’ এবং ২০১৩ সালে স্বাক্ষরিত ‘ভারত-বাংলাদেশ বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি’। এই আইনি কাঠামোর অধীনে উভয় দেশ গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত বা দণ্ডিত ব্যক্তিদের নিজেদের দেশে ফিরিয়ে আনতে পারে। ১৯৭৪ সালের আইনের ৪ ধারা অনুযায়ী, সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে যে কোনো বিদেশি রাষ্ট্রকে এই আইনের আওতাভুক্ত করতে পারে। ১৫ ধারা অনুযায়ী, বিদেশে পলাতক কোনো অপরাধীকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশের কাছে আবেদন করতে পারে। ২০১৩ সালের ২৮ জানুয়ারি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং ২০১৬ সালে এটি সংশোধিত হয়। চুক্তির আওতায়, যেসব অপরাধের সাজা কমপক্ষে এক বছর বা তার বেশি, শুধু সেসব অপরাধের ক্ষেত্রেই প্রত্যর্পণ কার্যকর করা যায়। প্রত্যর্পণ না করার শর্তাবলির মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক অপরাধ; অর্থাৎ কোনো অপরাধকে যদি ‘রাজনৈতিক প্রকৃতির’ বলে বিবেচনা করা হয়, তবে অভিযুক্তকে প্রত্যর্পণ করা যায় না। তবে হত্যা, অপহরণ এবং নাশকতার মতো গুরুতর অপরাধগুলোকে রাজনৈতিক হিসেবে গণ্য করা হয় না। চুক্তি অনুযায়ী কোনো রাষ্ট্র তার নিজের দেশের নাগরিককে অন্য কোনো দেশের হাতে তুলে দিতে বাধ্য নয়। এ ছাড়া ন্যায়বিচারের স্বার্থে, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে বা প্রমাণাদির অভাবে অনুরোধকারী রাষ্ট্র যদি প্রত্যর্পণের আবেদন খারিজ করতে চায়, তবে তা করতে পারে।







