শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়নি

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত থেকে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার অনুমতি পাচ্ছেন না বলে ভারতের সংসদীয় কমিটিকে নিশ্চিত করেছে দেশটির সরকার। শেখ হাসিনার এ বছরের শেষ নাগাদ দেশে ফেরার সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই অবস্থান পরিষ্কার করে।

একই সময়ে বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) জানিয়েছেন যে ভারত থেকে দেশে ফেরামাত্রই শেখ হাসিনাকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে ঢাকা থেকে পাঠানো শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ আবেদনটি ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিদ্যমান আইন ও নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষা করে দেখছে বলে সংসদীয় প্যানেলকে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

ভারতের কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুরের নেতৃত্বাধীন পররাষ্ট্র বিষয়ক সংসদীয় কমিটি উল্লেখ করে যে সংকটজনক পরিস্থিতির মুখে পড়া ব্যক্তিকে আশ্রয় দেওয়া ভারতের দীর্ঘদিনের নীতি ও মানবিক ঐতিহ্যের অংশ। তবে এই মানবিক আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো অবস্থাতেই ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতে না দেওয়ার নীতি কঠোরভাবে মেনে চলা হয়।

আরও পড়ুন:  শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে ভারতকে চিঠি

কমিটির ‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা প্রদান প্রক্রিয়া দ্রুত স্বাভাবিক করার সুপারিশ করা হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই থেকে দুই বছর স্থগিত থাকার পর ২০২৬ সালের ২৮ জুন থেকে পর্যটন ভিসা চালু হলেও তা আরও গতিশীল করার কথা বলা হয়।

এ ছাড়া ২০২৬ সালে মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া ১৯৯৬ সালের তিস্তা পানি চুক্তির নবায়নে দ্রুত আলোচনা শুরুর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার রাজ্য সরকারের সঙ্গে পরামর্শ এবং জলবায়ু পরিবর্তন ও নদীর সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণ করে আলোচনার পরামর্শ দিয়েছে কমিটি। কূটনৈতিক আলোচনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার বিষয়টিকে প্রাধান্য দেওয়ার কথাও এতে উল্লেখ করা হয়।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *