জার্মানিকে হারানোর উল্লাসে দেশজুড়ে জাতীয় ছুটি ঘোষণা ইকুয়েডরের

ম্যাচের শুরুতেই গোল হজম করে ব্যাকফুটে চলে গিয়েছিল দল। তবে এরপরই প্রত্যাবর্তনের এক মহাকাব্য লিখল ইকুয়েডর। শক্তিশালী জার্মানিকে হারিয়ে নিশ্চিত করল বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব। বিশ্বমঞ্চে ফুটবলারদের এমন ইতিহাসগড়া সাফল্যের পর দেশের মানুষকে এক দিনের বিশেষ সরকারি ছুটি উপহার দিয়েছেন ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট দানিয়েল নোবোয়া।

নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার রাতের ম্যাচে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে ২–১ গোলে হারিয়েছে লাতিন আমেরিকার দেশটি। ২০০৬ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়ার শঙ্কায় পড়েছিল তারা। তবে এই টুর্নামেন্টে এবারই প্রথম বিশ্বকাপজয়ী কোনো পরাশক্তির বিপক্ষে জয়ের স্বাদ পেল ইকুয়েডর।

বিশ্বকাপের মঞ্চে এমন অবিস্মরণীয় জয়ের পর দলের ফুটবলার ও কোচিং স্টাফকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট দানিয়েল নোবোয়া। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তায় শুক্রবার দেশজুড়ে সরকারি ছুটির ঘোষণা দিয়ে তিনি লেখেন, ‘আমাদের খেলোয়াড় এবং কোচকে অসংখ্য ধন্যবাদ, যারা সব সমালোচনা, অপমান এবং কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাওয়ার পরেও অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। তারা আজ পুরো দেশে এক বিশাল আনন্দের জোয়ার বয়ে এনেছেন। আগামীকাল (শুক্রবার) পুরো দেশে ছুটি! দীর্ঘজীবী হোক ইকুয়েডর।’

আরও পড়ুন:  শেখ হাসিনার সঙ্গে জার্মান চ্যান্সেলরের বৈঠক

ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই লেরয় সানের দুর্দান্ত গোলে পিছিয়ে পড়ে চরম ধাক্কা খেয়েছিল ইকুয়েডর। তবে সেই ধাক্কা সামলে ম্যাচে ফিরতে বেশি সময় নেয়নি তারা। নবম মিনিটে নিলসন আঙ্গুলোর চোখধাঁধানো গোলে সমতায় ফেরে ইকুয়েডর।  এরপর জার্মানির একের পর এক আক্রমণ রুখে দিয়ে ম্যাচের ৭৭ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে গনজালো প্লাতার গোলে পুরো স্টেডিয়ামকে উল্লাসে মাতায় তারা।

জার্মানিকে হারিয়ে ৩ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ‘তৃতীয় স্থান’ অধিকারী দল হিসেবে নকআউটে পা রাখল ইকুয়েডর। অন্যদিকে, এই ম্যাচে হারলেও ৩ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ‘ই’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়েই পরের রাউন্ডে উঠেছে জার্মানি। গ্রুপের অন্য ম্যাচে কুরাসাওকে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করে সমান ৬ পয়েন্ট পেলেও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে নকআউট নিশ্চিত করেছে আফ্রিকার পরাশক্তি আইভরি কোস্ট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *