চট্টগ্রামে হামের ভয়াবহতা: ১০ দিনে হাসপাতালে ভর্তি ৪৫৭ শিশু

চট্টগ্রামে প্রতিনিয়ত বাড়ছে হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। এরইমধ্যে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুও হয়েছে অনেকের। মাত্র ১০দিনেই নতুন করে রেকর্ড ৪৫৭ শিশুর দেহে মিলেছে হামের ‘বিষ’। যে কারণে তাদেরকে ভর্তি হতে হয়েছে হাসপাতালে।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য বলছে, চট্টগ্রামে হাম ও হামের লক্ষণ নিয়ে প্রতিদিনই নতুন করে গড়ে ৫০ জনের বেশি শিশু হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। গত ১০ দিনে নতুন করে অনেক শিশুর দেহে মিলেছে হামের উপসর্গ। যে কারণে তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। এরমধ্যে গত ৭ জুন একদিনেই রেকর্ড ৭১ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়। 

গত ১০ দিনের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়- ৪ জুন ৬৪ জন, ৫ জুন ৩৪ জন, ৬ জুন ৫৮ জন, ৭ জুন ৭১ জন, ৮ জুন ৫৭ জন, ৯ জুন ৫৫ জন, ১০ জুন ৬০ জন, ১১ জুন ৪৪ জন, ১২ জুন ২৭ জন এবং ১৩ জুন ৫১ জন শিশু হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। চট্টগ্রামে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৮৮৬ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ২৭৮ শিশু।

আরও পড়ুন:  সাগরে নিম্নচাপ, সমুদ্রবন্দরে সতর্ক সংকেত

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রখ্যাত শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. মুসলিম উদ্দিন সবুজ বলেন, ‘হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ। এটি বাতাসের মাধ্যমে খুব দ্রুত ও সহজে ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশিতে ভাইরাসটি বাতাসে প্রায় দুই ঘণ্টা বেঁচে থাকতে পারে। সেই বাতাসে শ্বাস নিলে বা জীবাণুযুক্ত পৃষ্ঠ স্পর্শ করে চোখে-মুখে হাত দিলে যে কেউ এটিতে আক্রান্ত হতে পারে। হাম থেকে শিশুদের রক্ষা করতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়া উচিত। কারণ, হামের উপসর্গ থাকা শিশুর সংস্পর্শে আসলে যে কোনো ভালো শিশু আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি। কোনো শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ আছে- তা অজানা থাকে বেশিরভাগ মানুষের। যে জায়গায় হামের লক্ষণ থাকা শিশু থাকে, সেখানে সুস্থ সন্তান মা-বাবার সঙ্গে গেলে সেও হামে আক্রান্ত হতে পারে।’

আরও পড়ুন:  পরীমণি ও সাদীর প্রেমে ভাঙনের সুর!

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুসা বলেন, ‘হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিনই অনেক শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। শারীরিক অবস্থা জটিল হওয়ায় অনেকের প্রয়োজন হচ্ছে পিআইসিইউ সাপোর্ট। আক্রান্তদের সুস্থ করে তুলতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। হাম থেকে শিশুদের বাঁচাতে মা-বাবার সচেতনতা জরুরি। কারণ, শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাভাবিকভাবেই কম থাকে। যে কারণে ভাইরাসের সংস্পর্শে এলে তারা খুব সহজেই আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।’

হাসপাতালে প্রতিনিয়ত শিশুর চাপ বাড়তে থাকায় উদ্বিগ্ন চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *