ঈদযাত্রায় নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিআইডব্লিউটিএর জরুরি নির্দেশনা

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে নৌপথে যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে একগুচ্ছ জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। সংস্থাটি লঞ্চ ও ফেরিতে অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করা, ঝুঁকি নিয়ে ছাদে ভ্রমণ না করা এবং দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় নৌযাত্রা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) সন্ধ্যায় বিআইডব্লিউটিএ’র পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব নির্দেশনার কথা জানানো হয়।বিআইডব্লিউটিএ’র সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আসন্ন ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে কোনোভাবেই অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে লঞ্চে ওঠা যাবে না। একই সঙ্গে লঞ্চের ছাদে যাত্রী হয়ে ভ্রমণ করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে বলা হয়েছে। তাড়াহুড়া করে ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চে ওঠা বা নামা না করার জন্যও যাত্রীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:  অগ্রণী ব্যাংকের ১০ কোটি টাকা উধাও, শাখা ব্যবস্থাপকসহ আটক ৩
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, বর্ষা মৌসুমে দুর্যোগপূর্ণ বা খারাপ আবহাওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌযাত্রা করা যাবে না। পথিমধ্যে কোনো কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিলে লঞ্চের ভেতর ছোটাছুটি না করে সবাইকে শান্ত থাকতে এবং কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলতে অনুরোধ করা হয়েছে।

নিরাপদ ঈদযাত্রার স্বার্থে যাত্রীদের উদ্দেশে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা দিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ। সংস্থাটি জানায়, অতিরিক্ত ভিড় এড়াতে পরিবারের সদস্যদের ঈদের মূল ভিড় শুরু হওয়ার আগেই গন্তব্যে পাঠিয়ে দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

একই সঙ্গে যাত্রাপথে অপরিচিত ব্যক্তির দেওয়া কোনো খাবার বা পানীয় গ্রহণ না করতে এবং পকেটমার, অজ্ঞান পার্টি ও ছিনতাইকারীদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।যানবাহন পারাপার ও ফেরিঘাটে যাত্রীদের ওঠানামা নিয়ে আলাদা নির্দেশনা দিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ। বিজ্ঞপ্তিতে চালক ও শ্রমিকদের উদ্দেশে বলা হয়েছে, বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে বাসের যাত্রীদের অবশ্যই আগে বাস থেকে নামাতে হবে। যাত্রীরা পায়ে হেঁটে ফেরিতে ওঠার পর খালি বাস ফেরিতে ওঠাতে হবে। কোনো যাত্রী বাসের ভেতরে থাকা অবস্থায় ফেরিতে বাস ওঠানোর চেষ্টা করা যাবে না।

আরও পড়ুন:  অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র
এ ছাড়া ফেরিতে বাস ওঠানোর সময় চালকদের তাড়াহুড়া না করে সিরিয়াল বজায় রাখতে এবং কর্তব্যরত স্টাফদের নির্দেশনা মেনে ধীরগতিতে গাড়ি চালানোর কথা বলা হয়েছে। ঘাট এলাকায় যানজট এড়াতে কোনো অবস্থাতেই অ্যাপ্রোচ রোডে গাড়ি পার্কিং বা ওভারটেক করা যাবে না বলেও কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।

ফেরিতে ওঠা ও নামার সময় সকল যাত্রীকে শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের ওঠানামায় অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং প্রয়োজনে তাদের সহায়তা করতে হবে।

নৌপথে যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য বিআইডব্লিউটিএ’র হটলাইন ১৬১১৩, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯, সরকারি তথ্য ও সেবা ৩৩৩, ফায়ার সার্ভিস ১০২, কোস্ট গার্ড ১৬১১১ এবং নৌপুলিশের বিশেষ নম্বর ০১৭৬৯৭০২২১৫-এ যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:  সবধরনের রেলে ২৫ শতাংশ ভাড়া ছাড় পাবেন শিক্ষার্থী ও বয়স্করা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 − 2 =