যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নিখোঁজ: লিমনের মরদেহ উদ্ধার, বৃষ্টিও বেঁচে নেই

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থীর দুজনেরই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিখোঁজের এক সপ্তাহ পর জানা গেল, জামিল লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি—উভয়েই প্রাণ হারিয়েছেন। লিমনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করার পর আজ শনিবার (২৫ এপ্রিল) বৃষ্টির মৃত্যুর বিষয়টিও তাঁর পারিবারিক সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। এই জোড়া খুনের ঘটনায় লিমনের রুমমেট হিশাম সালেহ আবুঘারবিয়েহকে (২৬) আটক করেছে স্থানীয় পুলিশ।

হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ অফিস গতকাল (২৪ এপ্রিল) এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানায়, টাম্পা বে এলাকার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের ওপর থেকে জামিল লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মরদেহটি অত্যন্ত বিকৃত বা ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। জামিল ইউএসএফ-এর ভূগোল, পরিবেশ ও নীতি নির্ধারণ বিভাগে পিএইচডি গবেষণারত ছিলেন।

আরও পড়ুন:  আপনাদের উপস্থিতি সমর্থনের প্রতিফলন: ইইউ দূতদের প্রধান উপদেষ্টা

লিমনের মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই নিখোঁজ নাহিদা বৃষ্টির পরিণতি নিয়ে চরম উৎকণ্ঠা ছিল। আজ সকালে বৃষ্টির ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত ফেসবুক পোস্টে তাঁর বোনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে লিখেছেন, ‘আমার বোন আর আমাদের মাঝে নেই।’ তবে প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত মার্কিন পুলিশ বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার বা তাঁর মৃত্যুর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি। নাহিদা একই বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পিএইচডি করছিলেন।

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ জামিল লিমনের রুমমেট ২৬ বছর বয়সী হিশাম সালেহ আবুঘারবিয়েহকে আটক করেছে। হিশাম ওই বিশ্ববিদ্যালয়েরই সাবেক শিক্ষার্থী। গতকাল সকালে হিশামের বাড়িতে পুলিশি অভিযানের সময় তিনি নিজেকে ব্যারিকেড দিয়ে আটকে রেখেছিলেন, পরে সোয়াত টিমের সহায়তায় তাঁকে আটক করা হয়। হিশামের বিরুদ্ধে বর্তমানে মরদেহ গোপন করা, তথ্য-প্রমাণ লোপাট এবং সহিংসতার অভিযোগে তদন্ত চলছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং পুলিশের ধারণা, এই জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে নাহিদা বৃষ্টির ঘটনার আরও পরিষ্কার চিত্র পাওয়া যাবে।

আরও পড়ুন:  সুন্দরবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে: বন বিভাগ

লিমনের ভাই জুবায়ের আহমেদ এর আগে জানিয়েছিলেন, লিমনের পরিকল্পনা ছিল গবেষণার কাজ শেষে বাংলাদেশে ফিরে শিক্ষকতা করা। অন্যদিকে নাহিদা বৃষ্টিও অত্যন্ত মেধাবী গবেষক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

পুলিশের তদন্ত বর্তমানে হিশামের মোটিভ বা কেন এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে, তা উদঘাটনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং হিশামের জবানবন্দি থেকে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *