ট্রাম্পের গোল্ড কার্ড ভিসা কর্মসূচি : নতুন তথ্য দিলেন মাস্ক

টেসলার সিইও ইলন মাস্ক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গোল্ড কার্ড ভিসা কর্মসূচি নিয়ে নতুন তথ্য দিয়েছেন। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানিয়েছেন, গোল্ড কার্ড ভিসা কর্মসূচিটি নিরবচ্ছিন্নভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে, যাতে সিস্টেমটি সঠিকভাবে কাজ করে।

এক্সে ইনফ্লুয়েন্সার মারিও নওফালের টুইটের জবাবে মাস্ক লিখেছেন, ‘আমরা এটি নীরবে পরীক্ষা করছি, যাতে সিস্টেমটি সঠিকভাবে কাজ করে। একবার এটি পুরোপুরি পরীক্ষা শেষ হলে, জনসাধারণের জন্য চালু করা হবে এবং প্রেসিডেন্ট আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেবেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইলন মাস্কের নেতৃত্বাধীন একটি টাস্কফোর্স যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অভিবাসন উদ্যোগের ওপর কাজ করছে, যা প্রতিটি গোল্ড কার্ড রেসিডেন্সি ভিসার জন্য ৫০ লাখ ডলার ফি ধার্য করবে। মাস্কের ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সির (ডিওজিই) প্রকৌশলীরা পররাষ্ট্র দপ্তর, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ ও সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসের সঙ্গে কাজ করছে, একটি সহজতর আবেদন পদ্ধতি ও ওয়েবসাইট তৈরির লক্ষ্যে।

আরও পড়ুন:  বাবরি মসজিদের ১১ দানবাক্স ভরে গেল ২ দিনেই, আসছে কোটি কোটি টাকা

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিওজিই প্রকৌশলী মার্কো এলেজ ও এডওয়ার্ড কোরিস্টাইন প্রকল্পটি পরিচালনা করছেন। তারা এই নতুন সিস্টেমে ফেডারেল যাচাইকরণ প্রক্রিয়াগুলো সংযুক্ত করছেন।

এয়ারবিএনবির সহপ্রতিষ্ঠাতা জো গেব্বিয়া প্রাথমিকভাবে ফেডারেল পেনশন ব্যবস্থা ডিজিটালাইজ করার দায়িত্বে যোগ দিয়েছেন।এলেজ ফেব্রুয়ারিতে একটি ছদ্মনামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে বর্ণবাদী পোস্ট ও ইউজেনিকসভিত্তিক অভিবাসন ধারণার সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় বিতর্কের মধ্যে পদত্যাগ করেন। তবে তিনি পরবর্তীতে ফেডারেল সংস্থাগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখেন। অনলাইনে ‘বিগ বলস’ নামে পরিচিত কোরিস্টাইন এর আগে ২০২২ সালে একটি তথ্যফাঁসের ঘটনায় পাথের ইন্টার্নশিপ থেকে বরখাস্ত হয়েছিলেন।

কী এই গোল্ড কার্ড ভিসা?
গোল্ড কার্ড কর্মসূচির লক্ষ্য ধনী ব্যক্তিদের জন্য দ্রুত স্থায়ী বসবাসের অনুমতি প্রদান করা, যা সাধারণ ভিসা প্রক্রিয়ার তুলনায় দ্রুত, মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে যাচাইকরণ ও সাক্ষাৎকার সম্পন্ন করে।

আরও পড়ুন:  নৈশভোজে হামলাকারীর ‘লক্ষ্যবস্তু’ ছিলেন ট্রাম্প

এটি বিদ্যমান ইবি-৫ ভিসা প্রগ্রামের বিকল্প, যেখানে আট লাখ থেকে সাড়ে ১০ লাখ ডলার বিনিয়োগ এবং ১০টি চাকরি সৃষ্টির মাধ্যমে গ্রিন কার্ড প্রদান করা হয়। কিন্তু গোল্ড কার্ডের ক্ষেত্রে অর্থ আয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেখানে অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমে রাজস্ব সৃষ্টি হবে।

গোল্ড কার্ড স্থায়ী বাসস্থান দেয়, নাগরিকত্ব নয়
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত এক হাজার গোল্ড কার্ড বিক্রি হয়েছে। এই কার্ডধারীরা ৫০ লাখ ডলার পরিশোধ করে এবং মার্কিন আইন মেনে চললে স্থায়ী বাসস্থানের সুবিধা পাবেন।

মাস্ক নিজেই এই কর্মসূচির জন্য সফটওয়্যার তৈরি করছেন এবং শিগগিরই এটি চালু হবে বলে জানা গেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফেব্রুয়ারিতে প্রথম এই গোল্ড কার্ড প্রস্তাব করেন। তিনি এটিকে ‘অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিদের জন্য’ একটি সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। সম্প্রতি তিনি তার ছবি, স্ট্যাচু অব লিবার্টি ও একটি টাক মাথার ঈগল সংবলিত গোল্ড কার্ডের নমুনাও প্রদর্শন করেছেন, যা শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:  ওয়াশিংটনে হামলার ঘটনায় ইরানের সম্পর্ক থাকার সম্ভাবনা কম : ট্রাম্প

সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

four × 4 =