দীর্ঘায়ু পেতে শুধু ব্যায়াম নয়, জরুরি বৈচিত্র্যও : হার্ভার্ডের গবেষণা

দীর্ঘদিন সুস্থভাবে বাঁচতে নিয়মিত ব্যায়ামের বিকল্প নেই। তবে শুধু কতক্ষণ ব্যায়াম করছেন, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ নয়; কী ধরনের ব্যায়াম করছেন, সেটিও আয়ুর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

হাঁটা, দৌড়ানো, সাঁতার, সাইকেল চালানো, ভারোত্তোলন কিংবা যোগব্যায়াম- এমন একাধিক ধরনের শরীরচর্চার অভ্যাস দীর্ঘায়ুর সম্ভাবনা বাড়াতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক দীর্ঘমেয়াদি গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত ওই গবেষণায় প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার মানুষের ৩০ বছরের স্বাস্থ্য ও শরীরচর্চার তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন গবেষকেরা। এতে দেখা গেছে, যারা বিভিন্ন ধরনের ব্যায়াম ও শারীরিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন, তাদের মৃত্যুঝুঁকি ছিল তুলনামূলক কম।

একই পরিমাণ শরীরচর্চা করলেও যারা শুধু একটি ধরনের ব্যায়ামে অভ্যস্ত ছিলেন, তাদের তুলনায় বৈচিত্র্যময় ব্যায়াম করা ব্যক্তিদের ৩০ বছরে মৃত্যুঝুঁকি ১৯ শতাংশ কম ছিল।গবেষণাটির প্রধান লেখক ইয়াং হু মনে করেন, বিভিন্ন ধরনের ব্যায়াম শরীরের ভিন্ন ভিন্ন উপকার করে। যেমন শক্তিবর্ধক ব্যায়াম পেশির সক্ষমতা বাড়ায়, অন্যদিকে হাঁটা ও দৌড়ানোর মতো বায়বীয় ব্যায়াম হৃদ্‌যন্ত্র ও ফুসফুসের কার্যক্ষমতা উন্নত করে। এসব ব্যায়াম রক্তের চর্বি, রক্তচাপ ও ইনসুলিনের কার্যকারিতার ওপরও ভিন্নভাবে প্রভাব ফেলতে পারে।

আরও পড়ুন:  আন্তর্জাতিক ও জাতিসংঘের ৬৬ সংস্থা থেকে সরে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
গবেষণায় শুধু সামগ্রিক মৃত্যুঝুঁকি নয়, হৃদ্‌রোগ, ক্যানসার ও শ্বাসতন্ত্রের রোগে মৃত্যুর ঝুঁকিও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের ব্যায়ামে অভ্যস্ত ব্যক্তিদের এসব রোগে মৃত্যুর ঝুঁকিও তুলনামূলক কম পাওয়া গেছে।

আলাদা ব্যায়ামের প্রভাব বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, যারা সবচেয়ে বেশি হাঁটতেন, তাদের মৃত্যুঝুঁকি সবচেয়ে কম হাঁটতেন এমন ব্যক্তিদের তুলনায় ১৭ শতাংশ কম। একইভাবে বেশি দৌড়ানো ব্যক্তিদের ঝুঁকি ছিল ১৩ শতাংশ কম। শক্তিবর্ধক ব্যায়াম, নৌকা চালানো এবং টেনিস খেলার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে।

তবে সাঁতার ও সাইকেল চালানোর ক্ষেত্রে উপকারের মাত্রা তুলনামূলক কম ছিল।গবেষকেরা বলছেন, দীর্ঘায়ুর জন্য কোনো একটি বিশেষ ব্যায়ামই সেরা নয়। বরং একাধিক ধরনের শরীরচর্চার সমন্বয় বেশি উপকারী হতে পারে।

আরও পড়ুন:  প্রথমবারের মতো মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা স্বীকার করল যুক্তরাষ্ট্র

তবে গবেষণাটির একটি সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। এটি নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচালিত হয়নি; বরং দীর্ঘ সময় ধরে মানুষের জীবনযাপন ও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য পর্যবেক্ষণ করে ফলাফল নির্ণয় করা হয়েছে। ফলে ব্যায়ামের বৈচিত্র্যের সঙ্গে মৃত্যুঝুঁকি কমার সম্পর্ক পাওয়া গেলেও একে সরাসরি কারণ ও ফলাফলের প্রমাণ বলা যায় না।

গবেষণার প্রধান লেখক ইয়াং হুর মতে, সবার জন্য ব্যায়ামের একটি নির্দিষ্ট সমন্বয় নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা, সক্ষমতা ও পছন্দ অনুযায়ী ব্যায়ামের ধরন বেছে নেয়া উচিত।

অর্থাৎ দীর্ঘায়ুর জন্য শুধু ব্যায়ামের সময় বাড়ানো নয়, শরীরচর্চায় বৈচিত্র্য আনাও গুরুত্বপূর্ণ। যে ব্যায়ামগুলো আনন্দের সঙ্গে নিয়মিত করা সম্ভব, সেগুলোর সমন্বয়ই দীর্ঘদিন সুস্থ থাকার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারে।

আরও পড়ুন:  হরমুজ প্রণালিতে ‘সেবা ফি’ দিতে সম্মত ইউরোপ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

nineteen − nine =