পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যসভার উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ পদ ছেড়ে দেওয়া কোয়েলকেই তার ছেড়ে দেওয়া আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থী করেছে বিজেপি। রোববার দিল্লির দীনদয়াল উপাধ্যায় মার্গে বিজেপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে তার নাম ঘোষণা করা হয়।
কোয়েলের বিজেপির প্রার্থী হওয়ার গুঞ্জন বেশ কিছুদিন ধরেই চলছিল। এর আগে তৃণমূলের সাংসদ পদ ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশচিক বরাইককে রাজ্যসভার উপনির্বাচনে প্রার্থী করেছিল বিজেপি। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন কোয়েলও।
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলে ভাঙন শুরু হয়। এর মধ্যেই গত ১৬ জুলাই দিল্লিতে গিয়ে উপরাষ্ট্রপতি সিপি রাধাকৃষ্ণণের কাছে সাংসদ পদ থেকে নিজের ইস্তফাপত্র জমা দেন কোয়েল। তার ছেড়ে দেওয়া আসনে আগামী ১৬ অক্টোবর উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
তৃণমূলের সাংসদ পদ ছাড়ার পর গত ৯ জুলাই বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশচিক বরাইক। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাদের রাজ্যসভার উপনির্বাচনে প্রার্থী করা হয়। এবার একইভাবে তৃণমূল ছেড়ে দেওয়া কোয়েলকেও রাজ্যসভায় ফের পাঠানোর উদ্যোগ নিল বিজেপি।
কোয়েলের বিজেপির প্রার্থী হওয়ার জল্পনা শুরু হয়েছিল তার সাংসদ পদ ছাড়ার পর থেকেই। গত ১৬ জুলাই ইস্তফা দেওয়ার পর তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। ওই সময় লোকসভায় তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ সাংসদেরা একাধিকবার ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে বৈঠক করেছিলেন। পরে ওই সাংসদেরা ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া’ (এনসিপিআই)-তে যোগ দেন এবং নিজেদের এনডিএর শরিক হিসেবে দাবি করেন।
এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে কোয়েল মল্লিকের নাম ঘোষণা করেছিল তৃণমূল। তার সঙ্গে প্রার্থী করা হয়েছিল রাজ্য পুলিশের সাবেক মহাপরিচালক রাজীব কুমার, সাবেক মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামীকে। গত মার্চে রাজ্যসভায় ভোট অনুষ্ঠিত হয়। কোয়েল ৬ এপ্রিল সাংসদ হিসেবে শপথ নেন।
তবে রাজ্যসভার কোনো অধিবেশনে যোগ দেওয়ার আগেই পদত্যাগ করেন কোয়েল। বাদল অধিবেশন শুরুর আগে ১৬ জুলাই তিনি সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেন। এবার তার ছেড়ে দেওয়া আসনের উপনির্বাচনেই বিজেপির প্রার্থী হলেন তিনি।







