কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নূর ইসলামের ‘ফু-ওয়াং বোলিং অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড’সহ ঢাকার চারটি বার ও রেস্তোরাঁয় অভিযান চালাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বিভিন্ন সংস্থা।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি) জানিয়েছে, এনবিআরের সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে এসব প্রতিষ্ঠানে ‘বিশেষ অভিযান’ পরিচালনা করা হচ্ছে।
অভিযান চলা অন্য তিনটি প্রতিষ্ঠান হলো ক্যানভাস রেস্টুরেন্ট, হাবিব হোটেল ইন্টারন্যাশনাল ও মার্গারিটা লাউঞ্জ।
সিআইআইডির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঢাকার কয়েকটি বার, রেস্তোরাঁ, ডিপ্লোম্যাটিক বন্ডেড ওয়্যারহাউজ ও ডিউটি ফ্রি শপে ‘অবৈধ উৎস’ থেকে অ্যালকোহল বা অ্যালকোহলজাত পণ্য সংগ্রহ, শুল্ক-মূসক ও আয়কর ‘ফাঁকি’ এবং ‘অননুমোদিত’ গ্রাহকদের কাছে এসব পণ্য সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে।
এসব অভিযোগ অনুসন্ধানে সিআইআইডি চারটি দল গঠন করেছে। এনবিআরের আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট, সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি), মূসক নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (ভ্যাট গোয়েন্দা) এবং ঢাকা উত্তর কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কর্মকর্তারা এসব দলের সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযান পরিচালনা করছেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ঢাকার দক্ষিণ গুলশানে শেখ নূর ইসলামের বন্ডেড ওয়্যারহাউজ ‘টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেডে’ যৌথ অভিযান চালায় সিআইআইডি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।
বন্ড সুবিধায় আমদানি করা শুল্কমুক্ত মদ ‘অননুমোদিত’ দুটি গুদামে মজুত রাখার অভিযোগে টস বন্ডের ওই দুটি গুদামের পাশাপাশি দুটি বৈধ গুদামও সিলগালা করা হয়।
দেশে মদ ও বার ব্যবসায় নানা অনিয়মের অভিযোগের পাশাপাশি কানাডায় শেখ নূর ইসলাম ও তার পরিবারের নাগরিকত্ব এবং সম্পদের তথ্য পাওয়ার বিষয়েও কর আদায়কারী গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তদন্ত করে আসছিল বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি ঢাকায় নিউ গিনি প্রপার্টিজের প্রকল্প এলাকায় সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনায় ক্ষমতাসীনদের দায়ী করার পর এসব তদন্তের গতি বাড়ে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ফু-ওয়াং কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে টস বন্ডকে শেখ নূর ইসলামের প্রতিষ্ঠান হিসেবে উপস্থাপনের বিষয়টি অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, সম্প্রতি টস বন্ড নামের একটি ওয়্যারহাউজ সিলগালা হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানটিকে শেখ নূর ইসলামের প্রতিষ্ঠান হিসেবে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট’।
ফু-ওয়াংয়ের দাবি, টস বন্ডের সঙ্গে শেখ নূর ইসলাম বা তার পরিবারের কোনো প্রত্যক্ষ, পরোক্ষ বা ‘দূরতম সম্পর্কও’ নেই।
প্রতিষ্ঠানটি আরও বলেছে, কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের সঙ্গে শেখ নূর ইসলামের মেয়ে দিশা ইসলামের বিয়ে শেখ নূর ইসলাম বা তার পরিবার মেনে নেয়নি।
তাদের দাবি, ওই বিয়ের পর থেকেই সালমান মুক্তাদির ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে শেখ নূর ইসলাম এবং তার পরিবারের সব ধরনের সামাজিক ও পারিবারিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন রয়েছে।







