প্রাথমিকে সুপারিশপ্রাপ্তদের পর্যায়ক্রমে নিয়োগপত্র দেওয়া হবে

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের বাদ দেওয়া নিয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘বিভ্রান্তি’ ছড়ানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

একই সঙ্গে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের আগামী ১ অক্টোবরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে নিয়োগপত্র দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আমরা লক্ষ্য করছি যে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫-এর নিয়োগপত্র প্রাপ্তি নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। এর প্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে, ১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত সময়ে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের কেউ নিয়োগপত্র না পেয়ে থাকলে তা পরবর্তীতে যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে নিয়োগপত্র প্রেরণ করা হবে

আরও পড়ুন:  আর্জেন্টিনার ইতিহাস গড়া জয়, কোপার শিরোপা মেসিদের

পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে ভেরিফিকেশন বা ভেটিং একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

জানা গেছে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন সহকারী শিক্ষক নিয়োগে সুপারিশপ্রাপ্তদের উপজেলাভিত্তিক তালিকা প্রকাশ করা হয়। এতে এ পর্যন্ত ৪১ জেলায় প্রায় দেড় হাজার সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী বাদ পড়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।তাদের নামে কোনো নিয়োগপত্র ইস্যু করা হয়নি। কী কারণে তারা বাদ পড়েছেন, সেটাও জানানো হয়নি। তবে ব্যক্তিগতভাবে খোঁজ-খবর নিয়ে প্রার্থীরা পুলিশ বা গোয়েন্দাদের ভেরিফিকেশনে নেগেটিভ রিপোর্ট থাকায় বাদ পড়েছেন বলে জেনেছেন।

এ নিয়ে বাদ পড়া প্রার্থীরা হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেসবুকে পোস্ট দিচ্ছেন। পাশাপাশি নেটিজেনরাও এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিরোধীদলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ছাত্রসংগঠন বিবৃতি দিয়েছে।

আরও পড়ুন:  শিরীন শারমিনের সঙ্গে মালয়েশিয়ার স্পিকারের বৈঠক

তবে বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) শাহীনা ফেরদৌসীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি এ বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হননি। অধিদপ্তরের অন্য কর্মকর্তারাও গণমাধ্যমে এ নিয়ে কথা বলতে চাইছেন না।

জেলা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারাও বিষয়টি নিয়ে চুপ। ফলে বাদ পড়া প্রার্থীরা ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে ক্ষোভ জানাচ্ছেন। সর্বত্রই এ নিয়ে হাহাকার।

গত ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায় (পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া) একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা (এমসিকিউ টাইপ) হয়। এত উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়। তাতে জেলাভিত্তিক উত্তীর্ণ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

7 − two =