আদেশে আরও বলা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে রেসকোর্স থানার ৯৬/২৩ নম্বর মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। পুলিশ যে প্রমাণ উপস্থাপন করেছে, তা পর্যালোচনার পর উজমা ও নোরিনকে আটক রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে পিটিআই এ ঘটনার ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় তথ্যসচিব শেখ ওয়াকাস আক্রম সোমবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করেন, ইমরানের দুই বোনকে তাদের সন্তান এবং আলিমা খানের ছেলেদের সঙ্গে আটক করে একটি সাঁজোয়া গাড়িতে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
পিটিআইয়ের আইনজীবী আওয়াইস ইউনুস চৌধুরীও দাবি করেন, ইমরানের তিন বোনকেই আটক করা হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে ক্ষমতার অপব্যবহার, মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন ও রাজনৈতিক নিপীড়ন হিসেবে বর্ণনা করে নিন্দা জানানো হয়েছে।
ইমরানের ছেলে কাসিম খানও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উজমা ও নোরিনকে ‘অপহরণ’ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। তার দাবি, কর্তৃপক্ষ তার ফুপু ও ফুপাতো ভাইদের বাড়িতে ঢুকে কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই তাদের গাড়িতে তুলে নিয়ে গেছে।
পিটিআই চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গওহর আলী খানও আটকের নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশে নতুন করে সংঘাত নয়, রাজনৈতিক উত্তেজনার অবসান প্রয়োজন। দলের সংসদ সদস্য ও পরিবারের সদস্যদের গ্রেপ্তার পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে রোববার আলিমা খানকে একই আইনের আওতায় ৩০ দিনের জন্য আটক বা গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়। ২০ সেপ্টেম্বরের ওই আদেশে আলিমার পাশাপাশি মুহাম্মদ আমির নামে এক ব্যক্তিকেও আটক রাখার নির্দেশ দেন লাহোরের ডিসি।
আলিমাকে আটক করার পর তার বোন নোরিন লাহোরে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, শনিবার বাসা থেকে বের হওয়ার পর আলিমাকে তার চালকসহ তুলে নেওয়া হয়। পরে তারা জানতে পারেন, আলিমার গাড়ি একটি থানায় রাখা হয়েছে। পুলিশ সূত্র দ্য ডনকে জানায়, আলিমাকে কোট লাখপত কারাগারে নেওয়া হয়েছে।
ইমরানের তিন বোনকে ঘিরে এই ধারাবাহিক আটকাদেশ এসেছে পিটিআইয়ের ২৭ সেপ্টেম্বরের দেশব্যাপী বিক্ষোভ ও ইসলামাবাদমুখী পদযাত্রার আগে। দলটি ওই কর্মসূচির মাধ্যমে ইমরান খানের মুক্তি এবং সংবিধানের শাসন প্রতিষ্ঠার দাবি জানাচ্ছে। একই সময়ে পাঞ্জাবে পিটিআইয়ের আরও নেতা-কর্মীকে আটক করার খবরও পাওয়া যাচ্ছে।
সূত্র: দ্য ডন ও জিও নিউজ







