পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান কারাগার থেকে মুক্তি পেলে দেশটির সেনাবাহিনী বা সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে সংঘাতে জড়াবেন না বলে জানিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) মুখপাত্র জুলফিকার বুখারি।
রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বুখারি বলেন, ইমরান খান মুক্তি পেলে এমন কোনো পদক্ষেপ নেবেন না, যা দেশের ক্ষতি করতে পারে। তিনি ইমরানকে ‘উদারমনা’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, দেশের স্বার্থে সেনাবাহিনী বা সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে সরাসরি বিরোধে না গিয়ে নিজের ক্ষোভ ও কষ্ট নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত।
বুখারির এ মন্তব্যকে পাকিস্তানের রাজনীতিতে পিটিআইয়ের অবস্থানে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দলটির সমর্থকরা সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে বিক্ষোভ করে আসছেন। তাদের অভিযোগ, সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে বিরোধের পর ২০২৩ সালে ইমরান খানকে কারাগারে পাঠানোর পেছনে মুনিরের ভূমিকা ছিল।
ইমরান খান নিজেও অতীতে মুনিরকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন। তবে এবার তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীর বক্তব্যে সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনার ইঙ্গিত পাওয়া গেল।
বুখারি বলেন, ‘ইমরান খান আগামীকাল মুক্তি পেলেও এমন কিছু করবেন না, যা কার্যত দেশের ক্ষতি করবে।’ তিনি আরও বলেন, সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে সংঘাতে না গিয়ে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে ব্যক্তিগত কষ্ট ও ক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।
ইমরান খানের চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন পাকিস্তানের সর্বোচ্চ আদালত। এই আইনি অগ্রগতির পরই বুখারি এসব মন্তব্য করেন। পরে কারাবন্দি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়াও হয়। তাকে রাজধানী ইসলামাবাদের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল।
তবে ইমরান খান নিজে সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে পুনর্মিলনের বিষয়ে একই অবস্থান পোষণ করেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।







